পাখিটি আমাকে ডেকে – জয় গোস্বামী
পাখিটি আমাকে ডেকে – জয় গোস্বামী পাখিটি আমাকে ডেকে বলল তার ডানার জখম বলল যে কীভাবে তার পালকে সংসার পোড়া ছ্যাঁকা কীভাবে পায়ের মধ্যে ফুটো করে ঢুকে এল চেন ঠোঁট দিয়ে খাঁচার শিক কাটতে গিয়ে ঠোঁটের জখম দ্যাখালো, বাইরে থেকে আমি নিজ ওষ্ঠ থেকে ওম দিলাম, খাঁচার দরজা খুলে তাকে “বাঁচবিযদি আয়’, বলে বার করে […]
জ্বলতে জ্বলতে পাখি পড়ছে – জয় গোস্বামী
জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি এক ভয়াবহ ও মহাজাগতিক ধ্বংসের দৃশ্যকল্প। এখানে ‘জ্বলতে জ্বলতে পাখি পড়া’—কেবল একটি দৃশ্যের বর্ণনা নয়, বরং এক চরম বিপন্নতা ও অস্তিত্বের দহনের সংকেত। সেই দহন যখন কবির কোটি যুগের ঘুম ভাঙিয়ে দেয়, তখন উন্মোচিত হয় এক রূঢ় বাস্তবতা। মাথার ওপরে ‘হা করা আকাশগর্ত’ এবং ‘লৌহমেঘ’—প্রকৃতির এক নিষ্ঠুর ও যান্ত্রিক রূপকে ফুটিয়ে […]
কাঠের ছাগল আর কাঠের মহিষ – জয় গোস্বামী
কাঠের ছাগল আর কাঠের মহিষ – জয় গোস্বামী কাঠের ছাগল আর কাঠের মহিষ–জ্যান্ত হল। খটখট লাফাঝাঁপি, খাট ও টেবিল ঘিরে বাঁধ– মুখ নিচু ক’রে ওরা মেঝেতে স্ফুলিঙ্গ পান করে পা নামাই খাট থেকে–মোজাইকে সূর্য দেখা দেয় রক্তাভ কটাহে দু পা, ক্রুশে বেঁধা দুটি হাতে ডানার ফোয়ারা আমি, জানলা দিয়ে বেরিয়ে এলাম নীচে দূর মর্ত্যলোকে–কাঠের মহিষ, […]
আমার বিদ্যুৎমাত্র আশা – জয় গোস্বামী
জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি কবির তীব্র আত্মশঙ্কা, সৃজন-বেদনা এবং বর্তমান সময়ের নিষ্ঠুরতার এক অনন্য দলিল। কবির ‘বিদ্যুৎমাত্র আশা’ বলতে বোঝায় এমন এক আশা যা অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী এবং অস্থির। সেই সামান্য আশার দিকেই ‘পুরোনো কামান’ বা ক্ষমতা ও ধ্বংসের প্রতীকগুলো মুখ উঁচিয়ে আছে। কামানের মুখ দিয়ে ‘অগ্নিরঙ থুতু’ বের হওয়া মূলত ঘৃণ্য আক্রমণ বা সামাজিক অবক্ষয়ের […]
পশ্চিমে বাঁশবন – জয় গোস্বামী
জয় গোস্বামীর এই কবিতাটি বন্দিত্ব এবং স্বাধীনতার এক নীরব ও গভীর হাহাকার। কবিতার প্রথমার্ধে কবি এক স্নিগ্ধ গ্রামবাংলার ছবি এঁকেছেন—যেখানে ‘বাঁশবন’, ‘ধানখেত’ আর ‘মাছ ধরা বালকদের’ কলকাকলি জীবনের সহজ গতির প্রতীক। এই মুক্ত জীবন যেন এক অবিচ্ছেদ্য সৌন্দর্যের ক্যানভাস। কিন্তু কবিতার শেষাংশে এক তীব্র মানসিক অভিঘাত (Shock) অপেক্ষা করে আছে। সেখানে দেখা যায়, এই রূপময় […]
জানি যে আমাকে তুমি – জয় গোস্বামী
জানি যে আমাকে তুমি – জয় গোস্বামী জানি যে আমাকে তুমি ঘৃণা করো, মেয়েদের ঘৃণা যেখানে যেখানে পড়ে সে জায়গাটা কালো হয়ে যায় নতুন অঙ্কুর উঠে দাঁড়াতে পারে না সোজা হয়ে তোমার ঘেন্নার ভয়ে পালাতে পালাতে আমি এই দিগন্তে শুয়েছি, সামনে সভ্যতা পর্যন্ত পড়ে থাকা যতটা শরীর, তার কোথাও এক কণা শস্য নেই শুধু কালো […]
কলঙ্ক, আমি কাজলের – জয় গোস্বামী
কলঙ্ক, আমি কাজলের – জয় গোস্বামী কলঙ্ক, আমি কাজলের ঘরে থাকি কাজল আমাকে বলে সমস্ত কথা কলঙ্ক, আমি চোট লেগে যাওয়া পাখি— বুঝি না অবৈধতা। কলঙ্ক, আমি বন্ধুর বিশ্বাসে রাখি একমুঠো ছাই, নিরুপায় ছাই আমি অন্যের নিঃশ্বাস চুরি ক’রে সে-নিঃশ্বাসে কি নিজেকে বাঁচাতে চাই? কলঙ্ক, আমি রামধনু জুড়ে জুড়ে দিন কাটাতাম, তাই রাত কাটতো না […]
আমাকে প্রত্যেকবার কেটে – জয় গোস্বামী
জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি এক তীব্র যাতনা, আদিমতা এবং পরাবাস্তব রূপান্তরের আখ্যান। এখানে কবি নিজেকে কেবল একজন মানুষ হিসেবে নয়, বরং এক আদিম বলির পশুরূপে কল্পনা করেছেন। ‘পশুরক্ত’ পাওয়া যাওয়ার অনুষঙ্গটি মানুষের ভেতরে লুকিয়ে থাকা প্রবৃত্তি এবং সভ্যতার নিচে চাপা পড়া আদিম যন্ত্রণাকেই সামনে নিয়ে আসে। কবিতাটিতে এক ভয়াবহ অথচ মহিমান্বিত দৃশ্যকল্প তৈরি হয়েছে। পর্বতচূড়ায় […]
আমলকীতলার নীচে মায়ের হাতের সাদা শাঁখা – জয় গোস্বামী
আমলকীতলার নীচে মায়ের হাতের সাদা শাঁখা – জয় গোস্বামী আমলকীতলার নীচে মায়ের হাতের সাদা শাঁখা ভেঙে পড়ে আছে–পাশে নতুন ইস্কুল বাড়ি ওঠে ঘাট থেকে বাড়ি ফিরছে শ্রাদ্ধের একান্নবর্তী দল পুরাতন স্বামীহারা বেড়া থেকে উঁকি দিয়ে দ্যাখে নতুন বিধবামূর্তি কার? গিরগিটি দৌড়য়, সামনে পুরনো বাড়ির হাড়গোড় মরা গাছ, তারও গায়ে বিষাক্ত পিঁপড়ের সারি নামে ওখানে শ্মশানে […]
আমলকীতলার গন্ধে সার বিষণ্ণতা – জয় গোস্বামী
আমলকীতলার গন্ধে সার বিষণ্ণতা – জয় গোস্বামী আমলকীতলার গন্ধে সার বিষণ্ণতা বেতাল যে-গাছে থাকে সে-গাছের পাতাও নড়ে না আমলকীতলার গন্ধে শোকপোড়া আলো বেতাল আকাশপথে জোনাকি কুড়িয়ে হেরে ভূত মরা মুখ উঠে এল রাতের জানলার বিপরীতে আমলকীতলার বায়ু, হে ধায়, ঊনপঞ্চাশ দিকে ধাক্কায় ফেলেছে তাকে জানলা থেকে খাড়া নর্দমায় মাঝখানে পৃথিবী ঘোরে, সূর্য দাঁতে কামড়ে ঘোরে […]