বাংলা গুরুকুল, GOLN

জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি কবির তীব্র আত্মশঙ্কা, সৃজন-বেদনা এবং বর্তমান সময়ের নিষ্ঠুরতার এক অনন্য দলিল। কবির ‘বিদ্যুৎমাত্র আশা’ বলতে বোঝায় এমন এক আশা যা অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী এবং অস্থির। সেই সামান্য আশার দিকেই ‘পুরোনো কামান’ বা ক্ষমতা ও ধ্বংসের প্রতীকগুলো মুখ উঁচিয়ে আছে।

কামানের মুখ দিয়ে ‘অগ্নিরঙ থুতু’ বের হওয়া মূলত ঘৃণ্য আক্রমণ বা সামাজিক অবক্ষয়ের একটি রূঢ় চিত্রকল্প। এখানে ‘বহুজনে পোড়ানো সম্মান’ শব্দবন্ধটি মানুষের অর্জিত মর্যাদা ধুলোয় মিশে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। কবির শেষ প্রশ্নটি অত্যন্ত মরমী ও আর্ত—যখন তিনি বলেন, ‘কে আমার লেখা শোনে?’ এটি মূলত একজন শিল্পীর একাকীত্ব এবং চারপাশের বধিরতার প্রতি বিদ্রূপ। ‘রক্তমাখা ভগবান’ শব্দটির মাধ্যমে কবি সম্ভবত সেই বিধাতাকে বা নিয়তিকে বুঝিয়েছেন, যিনি এই ভয়াবহ ধ্বংসলীলার মাঝেও এক নীরব এবং নির্মম দর্শক হয়ে আছেন। এটি একদিকে ব্যক্তিগত হাহাকার, অন্যদিকে এক বিপন্ন সময়ের সমাজবীক্ষণ।

আমার বিদ্যুৎমাত্র আশা – জয় গোস্বামী

আমার বিদ্যুৎমাত্র আশা

তার দিকে, রাত্রি হলে, ধীরে ধীরে মুখ ঘুরিয়েছে
মেঘের পিছনে রাখা পুরোনো কামান

কালো, গোল গলা দিয়ে উঠে আসে অগ্নিরঙ থুতু–
বহুজনে পোড়ানো সম্মান

কে আমার লেখা শোনে? এও রক্তমাখা ভগবান!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha