বাংলা গুরুকুল, GOLN

জয় গোস্বামীর এই কবিতাটি বন্দিত্ব এবং স্বাধীনতার এক নীরব ও গভীর হাহাকার। কবিতার প্রথমার্ধে কবি এক স্নিগ্ধ গ্রামবাংলার ছবি এঁকেছেন—যেখানে ‘বাঁশবন’, ‘ধানখেত’ আর ‘মাছ ধরা বালকদের’ কলকাকলি জীবনের সহজ গতির প্রতীক। এই মুক্ত জীবন যেন এক অবিচ্ছেদ্য সৌন্দর্যের ক্যানভাস।

কিন্তু কবিতার শেষাংশে এক তীব্র মানসিক অভিঘাত (Shock) অপেক্ষা করে আছে। সেখানে দেখা যায়, এই রূপময় দৃশ্যটি আসলে একজন ‘কয়েদি’ বা বন্দি মানুষের মনের কল্পনা অথবা জানলার ওপারে দেখা এক অসম্ভবের হাতছানি। ‘কয়েদি’ কোনো উত্তর দেয় না, কারণ তার হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতার ক্ষত এতটাই গভীর। সে কেবল মেঝের ওপর সেই ফেলে আসা বিকেলের ছবি এঁকে নিজের যন্ত্রণাকে প্রশমিত করতে চায়। এটি একদিকে যেমন গ্রামবাংলার অপরূপ চিত্রকল্প, অন্যদিকে মানুষের অবরুদ্ধ সত্তার এক করুণ আখ্যান।

পশ্চিমে বাঁশবন – জয় গোস্বামী

পশ্চিমে বাঁশবন। তার ধারে ধারে জল।

বিকেল দাঁড়াল ধানক্ষেতে।

জলে ভাঙা ভাঙা মেঘ। ফিরে আসছে মাছমারা বালকের দল।
খালি গা, কোমরে গামছা, লম্বা ছিপ, ঝুড়ি–
আবছা কোলাহল।

তোমার কি ইচ্ছে করে, এখন ওদের সঙ্গে যেতে?

কয়েদি উত্তর দেয় না। সে শুধু বিকেলটুকু
এঁকে রাখছে ঘরের মেঝেতে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha