বাংলা গুরুকুল, GOLN

বেজায় রাগ – সুকুমার রায়

ও হাড়্‌গিলে, হাড়্‌গিলে ভাই, খাপ্পা বড্ড আজ ! ঝগড়া কি আর সাজে তোমার ? এই কি তোমার যোগ্য কাজ ? হোম্‌রা চোম্‌রা মান্য তোমরা বিদ্যেবুদ্ধি মর্যাদায় ওদের সঙ্গে তর্ক করছ- নাই কি কোন লজ্জা তায় ? জান্‌ছ নাকি বলছে ওরা ? “কিচির মিচির কিচ্চিরি,” অর্থাৎ কিনা, তোমার নাকি চেহারাটা বিচ্ছিরি ! বল্‌ছে আচ্ছা বলুক, তাতে […]

বেশ বলেছ – সুকুমার রায়

এসব কথা শুন্‌‌লে তোদের লাগবে মনে ধাঁধা, কেউ বা বুঝে পুরোপুরি, কেউ বা বুঝে আধা । কারে বা কই কিসের কথা কই যে দফে দফে, গাছের ‘পরে কাঁঠাল দেখে তেল মেখ না গোঁফে । একটি একটি কথায় যেন সদ্য দাগে কামান, মন-বসনের ময়লা ধুতে তত্ত্বকথাই সমান । বেশ বলেছ, ঢের বলেছ, ঐখেনে দাও দাঁড়ি, হাঁটের […]

বোম্বাগড়ের রাজা – সুকুমার রায়

কেউ কি জান সদাই কেন বোম্বাগড়ের রাজা- ছবির ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখে আমসত্ত্ব ভাজা? রানীর মাথায় অষ্টপ্রহর কেন বালিশ বাঁধা? পাঁউরুটিতে পেরেক ঠোকে কেন রানীর দাদা? কেন সেথায় সর্দি হলে ডিগবাজি খায় লোকে? জোছ‌্না রাতে সবাই কেন আলতা মাথায় চোখে? ওস্তাদেরা লেপ মুড়ি দেয় কেন মাথায় ঘাড়ে? টাকের পরে পন্ডিতেরা ডাকের টিকিট মারে। রাত্রে কেন ট্যাঁক্‌ঘড়িটা […]

ভারি মজা – সুকুমার রায়

এই নেয়েছ, ভাত খেয়েছ, ঘণ্টাখানেক হবে— আবার কেন হঠাৎ হেন নামলে এখন টবে? এক্‌লা ঘরে ফুর্তি ভরে লুকিয়ে দুপুরবেলা, স্নানের ছলে ঠাণ্ডা জলে জল-ছপ্‌ছপ্‌ খেলা। জল ছিটিয়ে, টব পিটিয়ে, ভাবছ, “আমোদ ভারি,— কেউ কাছে নাই, যা খুশি তাই করতে এখন পারি।” চুপ্‌ চুপ্‌ চুপ্‌— ঐ দুপ্‌ দুপ্‌! ঐ জেগেছে মাসি, আসছে ধেয়ে, শুনতে পেয়ে দুষ্টু […]

ভালরে ভাল – সুকুমার রায়

দাদা গো ! দেখ্‌‌ছি ভেবে অনেক দূর- এই দুনিয়ার সকল ভাল, আসল ভাল নকল ভাল, সস্তা ভাল দামীও ভাল, তুমিও ভাল আমিও ভাল, হেথায় গানের ছন্দ ভাল, হেথায় ফুলের গন্ধ ভাল, মেঘ-মাখানো আকাশ ভাল, ঢেউ-জাগানো বাতাস ভাল, গ্রীষ্ম ভাল বর্ষা ভাল, ময়লা ভাল ফরসা ভাল, পোলাও ভাল কোর্মা ভাল, মাছপটোলের দোলমা ভাল, কাঁচাও ভাল পাকাও […]

ভাল ছেলের নালিশ – সুকুমার রায়

ভাল ছেলের নালিশ – সুকুমার রায় মাগো! প্রসন্নটা দুষ্টু এমন! খাচ্ছিল সে পরোটা গুড় মাখিয়ে আরাম ক’রে বসে – আমায় দেখে একটা দিল ,নয়কো তাও বড়টা, দুইখানা সেই আপনি খেল ক’ষে! তাইতে আমি কান ধরে তার একটুখানি পেঁচিয়ে কিল মেরেছি ‘হ্যাংলা ছেলে’ বলে- অম্‌‌নি কিনা মিথ্যা করে ষাঁড়ের মত চেচিয়ে গেল সে তার মায়ের কাছে […]

আলোছায়া – সুকুমার রায়

সুকুমার রায়ের এই পঙ্ক্তিমালাটি মানুষের বিষণ্ণতা ও মনের সংকীর্ণতাকে এক চমৎকার রূপকের মাধ্যমে তুলে ধরেছে। কবি এখানে এমন এক ‘কালো ছায়া’ বা মনের অন্ধকারের কথা বলেছেন, যা বাইরের রোদে দূর হয় না। এই অন্ধকার আসলে মানুষের কঠিন ও শুষ্ক মনোভাবের প্রতীক। কবি এক গভীর সত্য প্রকাশ করেছেন—যতই কঠিন বা ধোঁয়াটে দুঃখ হোক না কেন, তাতে […]

কিম্ভূত! – সুকুমার রায়

কিম্ভূত! – সুকুমার রায় বিদ্‌ঘুটে জানোয়ার কিমাকার কিম্ভূত, সারাদিন ধ’রে তার শুনি শুধু খুঁতখুঁত ৷ মাঠপারে ঘাটপারে কেঁদে মরে খালি সে, ঘ্যান্‌ ঘ্যান্ আব্‌দারে ঘন ঘন নালিশে ৷ এটা চাই সেটা চাই কত তার বায়না— কি যে চায় তাও ছাই বোঝা কিছু যায় না ৷ কোকিলের মত তার কন্ঠেতে সুর চাই, গলা শুনে আপনার, বলে, […]

ডানপিটে – সুকুমার রায়

ডানপিটে – সুকুমার রায় বাপ্‌রে কি ডানপিটে ছেলে!- কোন দিন ফাঁসি যাবে নয় যাবে জেলে। একটা সে ভুত সেজে আঠা মেখে মুখে, ঠাঁই ঠাই শিশি ভাঙে শ্লেট দিয়ে ঠুকে। অন্যটা হামা দিয়ে আলমারি চড়ে, খাট থেকে রাগ ক’রে দুম্‌দাম্ পড়ে। বাপরে কি ডানপিটে ছেলে!- শিলনোড়া খেতে চায় দুধভাত ফেলে! একটার দাঁত নেই, জিভ দিয়ে ঘষে, […]

কেন সব কুকুরগুলো – সুকুমার রায়

সুকুমার রায়ের এই পঙ্ক্তিমালাটি তাঁর চিরচেনা ‘ননসেন্স’ বা খামখেয়ালি দর্শনের এক চমৎকার উদাহরণ। এখানে আপাতদৃষ্টিতে অর্থহীন কিছু কৌতূহলী প্রশ্নের মাধ্যমে কবি মানুষের অকারণ ও গভীর পাণ্ডিত্যের অসারতাকে বিদ্রূপ করেছেন। কুকুরের চিৎকার থেকে শুরু করে ফোকলা দাঁতের পোকা—এমন সব আজগুবি বিষয়ে ‘ছায়ায় বসে’ চিন্তার আহ্বান মূলত অলস বুদ্ধিজীবীদের প্রতি এক সূক্ষ্ম পরিহাস। সহজ ছন্দে গভীর রসিকতাই […]