ঢপ ঢপ ঢাক ঢোল – সুকুমার রায়
সুকুমার রায়ের এই পঙ্ক্তিমালাটি শব্দের ধ্বনিমাধুর্য বা ‘অনোপম্যাটোমিয়া’র এক অনবদ্য উদাহরণ। এখানে ঢাক, ঢোল, বাঁশি আর করতালের বিচিত্র শব্দের মাধ্যমে এক হট্টগোলপূর্ণ উৎসবের আবহ তৈরি করা হয়েছে। শব্দের এই প্রবল তোড়ে এবং ‘ধুমধাম’ কাণ্ডে সাধারণ যে কেউ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যেতে পারে। কবিতাটির শেষভাগে এক শিশুতোষ কৌতুক ফুটে উঠেছে। বাজনা আর শব্দের প্রচণ্ডতায় ভয় পেয়ে ‘বাবুদের […]
খোকা ঘুমায় – সুকুমার রায়
খোকা ঘুমায় – সুকুমার রায় কোন্খানে কোন্ সুদূর দেশে, কোন্ মায়ের বুকে, কাদের খোকা মিষ্টি এমন ঘুমায় মনের সুখে? অজানা কোন্ দেশে সেথা কোন্খানে তার ঘর? কোন্ সমুদ্র, কত নদী, কত দেশের পর? কেমন সুরে, কি ব’লে মা ঘুমপাড়ানি গানে খোকার চোখে নিত্যি সেথা ঘুমটি ডেকে আনে? ঘুমপাড়ানি মাসীপিসী তাদেরও কি থাকে? “ঘুমটি দিয়ে যাওগো” […]
তেজিয়ান – সুকুমার রায়
তেজিয়ান – সুকুমার রায় চলে খচ্খচ্ রাগে গজ্গজ্ জুতা মচ্মচ্ তানে, ভুরু কট্মট্ ছড়ি ফট্ফট্ লাথি চট্পট্ হানে । দেখে বাঘ-রাগ লোকে ‘ভাগ্ ভাগ্’ করে আগভাগ থেকে, বয়ে লাফ ঝাঁপ বলে ‘বাপ্ বাপ্’ সরে হাবভাব দেখে । লাথি চার চার খেয়ে মার্জার ছোটে যার যার ঘরে, মহা উৎপাত ক’রে হুটপাট্ চলে ফুটপাথ্ পরে । ঝাড়ুবর্দার […]
খোকার ভাবনা – সুকুমার রায়
খোকার ভাবনা – সুকুমার রায় মোমের পুতুল লোমের পুতুল আগ্লে ধ’রে হাতে তবুও কেন হাব্লা ছেলের মন ওঠে না তাতে? একলা জেগে একমনেতে চুপ্টি ক’রে ব’সে, আন্মনা সে কিসের তরে আঙুলখানি চোষে? নাইকো হাসি নাইকো খেলা নাইকো মুখে কথা, আজ সকালে হাব্লাবাবুর মন গিয়েছে কোথা? ভাব্ছে বুঝি দুধের বোতল আস্ছে নাকো কেন? কিংবা ভাবে মায়ের […]
দিনের হিসাব – সুকুমার রায়
দিনের হিসাব – সুকুমার রায় ভোর না হতে পাখিরা জোটে গানের চোটে ঘুমটি ছোটে- চোখ্টি খোলো, গাত্র তোলো আরে মোলো সকাল হলো। হায় কি দশা পড়্তে বসা অঙ্ক কষা, কলম ঘষা। দশটা হলে হট্টগোলে দৌড়ে চলে বই বগলে! স্কুলের পড়া বিষম তাড়া, কানটি নাড়া বেঞ্চে দাঁড়া মরে কি বাঁচে! সমুখে পাছে বেত্র নাচে নাকের কাচে।। […]
গন্ধ বিচার – সুকুমার রায়
গন্ধ বিচার – সুকুমার রায় সিংহাসনে বস্ল রাজা বাজল কাঁসর ঘন্টা, ছট্ফটিয়ে উঠল কেঁপে মন্ত্রীবুড়োর মনটা ৷ বল্লে রাজা, মন্ত্রী তোমার জামায় কেন গন্ধ ? মন্ত্রী বলে, এসেন্স দিছি—গন্ধ তো নয় মন্দ ! রাজা বলেন, মন্দ ভালো দেখুক শুঁকে বদ্যি, বদ্যি বলে, আমার নাকে বেজায় হল সর্দি ৷ রাজা হাঁকেন, বোলাও তবে রাম নারায়ণ পাত্র, […]
দুষ্টুলোকের মিষ্টি কথায় – সুকুমার রায়
সুকুমার রায়ের এই পঙ্ক্তিমালাটি সমাজের ধূর্ত ও চাটুকার ব্যক্তিদের স্বরূপ উন্মোচনে এক তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক চাবুক। কবি এখানে ‘মাকড়জীবী’ বা মাকড়সার রূপক ব্যবহার করেছেন, যারা নিপুণ সুতোর জালের মতো কথার মারপ্যাঁচে মানুষকে আষ্টেপৃষ্ঠে বন্দি করে। কবিতাটির মূল শিক্ষা হলো—দুষ্ট মানুষের মিষ্টি কথায় মুগ্ধ হওয়া মানেই নিজের অমঙ্গল ডেকে আনা। যারা কথার ছলে অন্যের ক্ষতি করে, তাদের […]
গ্রীষ্ম (ঐ এল বৈশাখ) – সুকুমার রায়
গ্রীষ্ম (ঐ এল বৈশাখ) – সুকুমার রায় ঐ এল বৈশাখ, ঐ নামে গ্রীষ্ম, খাইখাই রবে যেন ভয়ে কাঁপে বিশ্ব ! চোখে যেন দেখি তার ধুলিময় অঙ্গ, বিকট কুটিলজটে ভ্রুকুটির ভঙ্গ, রোদে রাঙা দুই আঁখি শুকায়েছে কোটরে, ক্ষুধার আগুন যেন জ্বলে তার জঠরে ! মনে হয় বুঝি তার নিঃশ্বাস মাত্রে তেড়ে আসে পালাজ্বর পৃথিবীর গাত্রে ! […]
নদী – সুকুমার রায়
নদী – সুকুমার রায় হে পর্বত, যত নদী করি নিরীক্ষণ তোমাতেই করে তারা জনম গ্রহণ। ছোট বড় ঢেউ সব তাদের উপরে কল্ কল্ শব্দ করি সদা ক্রীড়া করে, সেই নদী বেকে চুরে যায় দেশে দেশে, সাগরেতে পড়ে গিয়া সকলের শেষে। পথে যেতে যেতে নদী দেখে কত শোভা, কি সুন্দর সেই সব কিবা মনোলোভা। কোথাও কোকিলে […]
আশ্চর্য ! – সুকুমার রায়
আশ্চর্য ! – সুকুমার রায় নিরীহ কলম, নিরীহ কালি, নিরীহ কাগজে লিখিল গালি – “বাঁদর বেকুব আজব হাঁদা বকাট্ ফাজিল অকাট্ গাধা।” আবার লিখিল কলম ধরি বচন মিষ্টি, যতন করি – “শান্ত মানিক শিষ্ট সাধু বাছারে, ধনরে, লক্ষ্মী যাদু।” মনের কথাটি ছিল যে মনে, রটিয়া উঠিল খাতার কোণে, আঁচড়ে আঁকিতে আখর ক’টি কেহ খুশী, কেহ […]