শিরচ্ছেদ, এখানে, বিষয় – জয় গোস্বামী
জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি এক ভয়াবহ ও শ্বাসরুদ্ধকর রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার দলিল। এখানে ‘শিরচ্ছেদ’ বা বিনাশই প্রধান বিষয়, যা একটি ত্রাসদীর্ণ পরিবেশকে ইঙ্গিত করে। ‘মাটি তাই নরম, কোপানো’—এই চিত্রকল্পটি ইঙ্গিত দেয় যে, এখানে অবিরত নিধন চলছে এবং মাটি সেই রক্ত ও মৃতদেহ গ্রহণ করার জন্য সদা প্রস্তুত। কবিতাটিতে এক গভীর ভয়ের শাসনকাল ফুটে উঠেছে। […]
বিবাহিতাকে – জয় গোস্বামী
বিবাহিতাকে – জয় গোস্বামী কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে, তুমি আমার সামনে দাড়ালেই আমি তোমার ভিতরে একটা বুনো ঝোপ দেখতে পাই। ওই ঝোপে একটা মৃতদেহ ঢাকা দেওয়া আছে। অনেকদিন ধ’রে আছে। কিন্তু আশ্চর্য যে এই মৃতদেহ জল, বাতাস, রৌদ্র ও সকলপ্রকার কীট-বীজাণুকে প্রতিরোধ করতে পারে। এর পচন নেই। বন্য প্রাণীরাও এর কাছে ঘেঁষে না। রাতে আলো বেরোয় […]
রেণু মা, আমার ঘরে তক্ষক ঢুকেছে – জয় গোস্বামী
জয় গোস্বামীর এই কবিতাটি এক ঘোরলাগা পরাবাস্তবতা এবং আধ্যাত্মিক উত্তরণের গল্প বলে। এখানে ‘রেণু মা’ একটি আশ্রয় বা মাতৃতান্ত্রিক ঐশ্বরিক সত্তার প্রতীক। ঘরে তক্ষকের প্রবেশ এবং তার ডাক কেবল কোনো প্রাণীর আগমন নয়, বরং এক অশুভ বা রহস্যময় সংকেতের ইঙ্গিত দেয়। কবিতার চিত্রকল্পগুলো অত্যন্ত প্রখর—জ্যোৎস্নায় কাক পুড়ে যাওয়া কিংবা দড়ি ভেবে সাপ ধরে গাছে ওঠা […]
রাস্তায় পড়েছে ব্রিজ–জল নেই–বালি – জয় গোস্বামী
জয় গোস্বামীর এই কবিতাটি যুদ্ধবিধ্বস্ত এক জনপদের হাড়হিম করা বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে। এখানে প্রতিটি চিত্রকল্পই ধ্বংস আর স্থবিরতার প্রতীক। ‘জলহীন বালি’, ‘আগাছা ভরা ইঁদারা’ আর ‘রাস্তায় পড়ে থাকা ব্রিজ’—সবই ইঙ্গিত দেয় এক বিকল ও পরিত্যক্ত সভ্যতার দিকে। এমনকি শ্মশানের চিতা থেকে যারা একসময় ধ্বংসের আওয়াজ শুনেছিল, জীবিকার তাগিদে আজ তারা নিজেরাই ‘কামান গাড়ি’ ঠেলার মতো […]
যে-ছাত্রীটি নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে – জয় গোস্বামী – জয় গোস্বামী
যে-ছাত্রীটি নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে – জয় গোস্বামী – জয় গোস্বামী কী বুঝেছে সে-মেয়েটি ? সে বুঝেছে রাজুমামা মায়ের প্রেমিক। কী শুনেছে সে-মেয়েটি ? সে শুনেছে মায়ের শীৎকার। কী পেয়েছে সে-মেয়েটি ?–সে পেয়েছে জন্মদিন ? চুড়িদার, আলুকাবলি–কু-ইঙ্গিত মামাতো দাদার। সে খুঁজেছে ক্লাসনোট, সাজেশন– সে ঠেলেছে বইয়ের পাহাড় পরীক্ষা, পরীক্ষা সামনে–দিনে পড়া, রাতে পড়া– ও পাশের ঘর […]
মেঘ বলতে আপত্তি কি ? – জয় গোস্বামী – জয় গোস্বামী
মেঘ বলতে আপত্তি কি ? – জয় গোস্বামী – জয় গোস্বামী মেঘ বলতে আপত্তি কি ? . বেশ, বলতে পরি . ছাদের ওপর মেঘ দাঁড়াতো . ফুলপিসিমার বাড়ি . গ্রীষ্ম ছুটি চলছে তখন . তখন মানে ? কবে ? আমার যদি চোদ্দো, মেঘের ষোলো-সতেরো হবে . ছাদের থেকে হাতছানি দিতো . ক্যারাম খেলবি ? … […]
মার? সে তো জানলার ওপারে এসে বসে – জয় গোস্বামী
মার? সে তো জানলার ওপারে এসে বসে – জয় গোস্বামী মার? সে তো জানলার ওপারে এসে বসে। হাত ভাণ্ড। চুমুক দিতেই তার স্বচ্ছ গলা দিয়ে নামে গলে যাওয়া নীহারিকা, চ্যাপ্টা সূর্য, বিন্দু বিন্দু চাঁদ– তার শিরা উপশিরা বেয়ে বইতে থাকে পুরো ছায়াপথ সে যখন জানলা ছেড়ে যায় ধোঁয়ার স্রোতের মধ্যে উল্টেপাল্টে ঘরে এসে ঢোকে অতীত–তালগোল […]
মাঠে বসে আছে জরদ্গব – জয় গোস্বামী
মাঠে বসে আছে জরদ্গব – জয় গোস্বামী মাঠে বসে আছে জরদ্গব। মাথায় পাহাড়। সামনের থালায় মাটি। তৃণ। সে খায়, থালায় গর্ত খুঁড়ে– দইয়ের ভাঁড়ের মতো কেটে কেটে নামে– আর ক্ষিদে শেষ হয় না–খনিজ সম্পদ কমে আসে, আরো কম–সুড়ুৎ চুমুকে জমানো তেলের গর্ভ খালি হয়ে যায় কাদা-ঝোল মাখা হাতে, জরদ্গব, থাকা মনে ক’রে খালি ফুটো পৃথিবী […]
মা এসে দাঁড়ায় – জয় গোস্বামী
জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি এক অপার্থিব মমতা, রূপক আর দীর্ঘশ্বাসের ছবি। এখানে ‘মা’ কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং এক আলোকবর্তিকা বা পরম আশ্রয়ের প্রতীক, যিনি আকাশের কোনো এক উচ্চতায় দাঁড়িয়ে এক অতৃপ্ত সন্তানের দিকে চেয়ে আছেন। নিম্নে ‘স্রোত’ আর ‘আগুনজ্বলা সাপ’ জীবনের তীব্র দহন, প্রলোভন ও বিপদের ইঙ্গিত দেয়। কবি নিজেকে কল্পনা করেছেন এক ‘শিকলবাঁধা […]
ময়না – জয় গোস্বামী
ময়না – জয় গোস্বামী এই যে কাকভোরে উঠে দরজা ঝাঁট দিই এই যে হাজারবার গিন্নিমার মুখ শুনি বৌদির কাপড় আর দাদার ফুলপ্যান্ট কেচে নড়া ব্যথা করি বাবুর ধমক খাই অপিসের আগে, বাচ্চা সামলাই আর এই যে সাতবার ক’রে দোকানে দৌড়ৈ, সে তো মোড়ে তুই রিক্সা নিয়ে আছিস ব’লেই, সে তো পাসিঞ্জার তুলে কি নামিয়ে তুই […]