বাংলা গুরুকুল, GOLN

জয় গোস্বামীর এই কবিতাটি যুদ্ধবিধ্বস্ত এক জনপদের হাড়হিম করা বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে। এখানে প্রতিটি চিত্রকল্পই ধ্বংস আর স্থবিরতার প্রতীক। ‘জলহীন বালি’, ‘আগাছা ভরা ইঁদারা’ আর ‘রাস্তায় পড়ে থাকা ব্রিজ’—সবই ইঙ্গিত দেয় এক বিকল ও পরিত্যক্ত সভ্যতার দিকে। এমনকি শ্মশানের চিতা থেকে যারা একসময় ধ্বংসের আওয়াজ শুনেছিল, জীবিকার তাগিদে আজ তারা নিজেরাই ‘কামান গাড়ি’ ঠেলার মতো মরণঘাতী কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য হচ্ছে।

কবিতাটির সবচেয়ে মর্মস্পর্শী ও নিষ্ঠুর দৃশ্যটি উন্মোচিত হয় শেষাংশে। বাতাসের শব্দের বদলে এখানে শোনা যায় ‘খড়ের নিঃশ্বাস’, যা এক দমবন্ধ করা পরিস্থিতির সংকেত। কবরে বা বোমার গর্তে কবি যখন উঁকি দেন, তখন সেখানে কোনো বীরত্ব নেই, আছে কেবল চরম অসহায়ত্ব—এক মৃত মা এবং তার হাতে মুখ চাপা দিয়ে রাখা এক অনাথ শিশু। এটি যুদ্ধের সেই ভয়াবহ রূপ যেখানে মৃত্যু আর আতঙ্ক পরম মমতায় একে অপরকে আঁকড়ে ধরে থাকে। এক নিঃস্ব ও জনশূন্য পৃথিবীর আর্তনাদই এই কবিতার মূল সুর।

রাস্তায় পড়েছে ব্রিজ–জল নেই–বালি – জয় গোস্বামী

রাস্তায় পড়েছে ব্রিজ–জল নেই–বালি
রাস্তায় পড়েছে শুকনো ধুলো ও আগাছা ভরা বিরাট ইঁদারা

শ্মশান? পড়েছে তাও–
চিতায় চাদর ঢেকে শুনেছিল যারা
তারা কাজে বেরিয়েছে প্রান্তরে, কামান গাড়ি ঠেলে

হঠাৎ কোথায় হাওয়া? চাপাচুপি খড়ের নিঃশ্বাস?

কবরে, বোমার গর্তে ঝুঁকে ঝুঁকে দেখি
মা, আর মায়ের হাতে মুখ চাপা অনাথ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha