বিষম ভোজ – সুকুমার রায়
“অবাক কান্ড!” বল্লে পিসী, “এক চাঙাড়ি মেঠাই এল- এই ছিল সব খাটের তলায়, এক নিমিষে কোথায় গেল?” সত্যি বটে বললে খুড়ী, “আনলো দু’সের মিঠাই কিনে- হঠাৎ কোথায় উপসে গেল? ভেল্কিবাজি দুপুর দিনে?” “দাঁড়াও দেখি” বল্লে দাদা, “কর্ছি আমি এর কিনারা- কোথায় গেল পটলা ট্যাঁপা – পাচ্ছিনে যে তাদের সাড়া?” পর্দাঘেরা আড়াল দেওয়া বারান্দাটার ঐ কোণেতে […]
বুঝবার ভুল – সুকুমার রায়
এমনি পড়ায় মন বসেছে, পড়ার নেশায় টিফিন ভোলে । সাম্নে গিয়ে উৎসাহ দেই মিষ্টি দুটো বাক্য বলে । পড়ছ বুঝি ? বেশ বেশ বেশ ! এক মনেতে পড়লে পরে “লক্ষ্মীছেলে – সোনার ছেলে” বলে সবাই আদর করে । এ আবার কি ? চিত্র নাকি ? বাঁদর পাজি লক্ষ্মীছাড়া- আমায় নিয়ে রংতামাসা ! পিটিয়ে তোমায় কর্ছি […]
বেজায় খুশি – সুকুমার রায়
বাহবা বাবুলাল ! গেলে যে হেসে ! বগলে কাতুকুতু কে দিল এসে ? এদিকে মিটিমিটি দেখ কি চেয়ে ? হাসি যে ফেটে পড়ে দু’গাল বেয়ে ! হাসে যে রাঙা ঠোঁট দন্ত মেলে চোখের কোণে কোণে বিজলী খেলে । হাসির রসে গ’লে ঝরে যে লালা কেন এ খি-খি-খি-খি হাসির পালা ? যে দেখে সেই হাসে হাহাহা […]
বেজায় রাগ – সুকুমার রায়
ও হাড়্গিলে, হাড়্গিলে ভাই, খাপ্পা বড্ড আজ ! ঝগড়া কি আর সাজে তোমার ? এই কি তোমার যোগ্য কাজ ? হোম্রা চোম্রা মান্য তোমরা বিদ্যেবুদ্ধি মর্যাদায় ওদের সঙ্গে তর্ক করছ- নাই কি কোন লজ্জা তায় ? জান্ছ নাকি বলছে ওরা ? “কিচির মিচির কিচ্চিরি,” অর্থাৎ কিনা, তোমার নাকি চেহারাটা বিচ্ছিরি ! বল্ছে আচ্ছা বলুক, তাতে […]
বেশ বলেছ – সুকুমার রায়
এসব কথা শুন্লে তোদের লাগবে মনে ধাঁধা, কেউ বা বুঝে পুরোপুরি, কেউ বা বুঝে আধা । কারে বা কই কিসের কথা কই যে দফে দফে, গাছের ‘পরে কাঁঠাল দেখে তেল মেখ না গোঁফে । একটি একটি কথায় যেন সদ্য দাগে কামান, মন-বসনের ময়লা ধুতে তত্ত্বকথাই সমান । বেশ বলেছ, ঢের বলেছ, ঐখেনে দাও দাঁড়ি, হাঁটের […]
বোম্বাগড়ের রাজা – সুকুমার রায়
কেউ কি জান সদাই কেন বোম্বাগড়ের রাজা- ছবির ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখে আমসত্ত্ব ভাজা? রানীর মাথায় অষ্টপ্রহর কেন বালিশ বাঁধা? পাঁউরুটিতে পেরেক ঠোকে কেন রানীর দাদা? কেন সেথায় সর্দি হলে ডিগবাজি খায় লোকে? জোছ্না রাতে সবাই কেন আলতা মাথায় চোখে? ওস্তাদেরা লেপ মুড়ি দেয় কেন মাথায় ঘাড়ে? টাকের পরে পন্ডিতেরা ডাকের টিকিট মারে। রাত্রে কেন ট্যাঁক্ঘড়িটা […]
ভারি মজা – সুকুমার রায়
এই নেয়েছ, ভাত খেয়েছ, ঘণ্টাখানেক হবে— আবার কেন হঠাৎ হেন নামলে এখন টবে? এক্লা ঘরে ফুর্তি ভরে লুকিয়ে দুপুরবেলা, স্নানের ছলে ঠাণ্ডা জলে জল-ছপ্ছপ্ খেলা। জল ছিটিয়ে, টব পিটিয়ে, ভাবছ, “আমোদ ভারি,— কেউ কাছে নাই, যা খুশি তাই করতে এখন পারি।” চুপ্ চুপ্ চুপ্— ঐ দুপ্ দুপ্! ঐ জেগেছে মাসি, আসছে ধেয়ে, শুনতে পেয়ে দুষ্টু […]
ভালরে ভাল – সুকুমার রায়
দাদা গো ! দেখ্ছি ভেবে অনেক দূর- এই দুনিয়ার সকল ভাল, আসল ভাল নকল ভাল, সস্তা ভাল দামীও ভাল, তুমিও ভাল আমিও ভাল, হেথায় গানের ছন্দ ভাল, হেথায় ফুলের গন্ধ ভাল, মেঘ-মাখানো আকাশ ভাল, ঢেউ-জাগানো বাতাস ভাল, গ্রীষ্ম ভাল বর্ষা ভাল, ময়লা ভাল ফরসা ভাল, পোলাও ভাল কোর্মা ভাল, মাছপটোলের দোলমা ভাল, কাঁচাও ভাল পাকাও […]
ভুতুড়ে খেলা – সুকুমার রায়
পরশু রাতে পষ্ট চোখে দেখনু বিনা চশমাতে, পান্তভূতের জ্যান্ত ছানা করছে খেলা জোছ্নাতে। কচ্ছে খেলা মায়ের কোলে হাত-পা নেড়ে উল্লাসে, আহ্লাদেতে ধুপধুপিয়ে কচ্ছে কেমন হল্লা সে। শুনতে পেলাম ভুতের মায়ের মুচকি হাসি কট্কটে- দেখছে নেড়ে ঝুন্টি ধ’রে বাচ্চা কেমন চট্পটে। উঠছে তাদের হাসির হানা কাষ্ঠ সুরে ডাক ছেড়ে, খ্যাঁশ্ খ্যাঁশানি শব্দে যেন করাত দিয়ে কাঠ […]
মনের মতন – সুকুমার রায়
সুকুমার রায়ের এই কবিতাটি নববর্ষের আবাহন এবং জীবনের ইতিবাচক দর্শনের এক অনুপম উদাহরণ। ‘কান্না হাসির পোঁটলা’ বেঁধে বিদায়ী বছরকে ‘বৃদ্ধ’ হিসেবে কল্পনা করে কবি সময় ও অভিজ্ঞতার সঞ্চয়কে ফুটিয়ে তুলেছেন। নতুন বছরের আগমনে আমাদের মনের প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত, কবি সেই প্রশ্নই রেখেছেন। কবিতাটির মূল সুর লুকিয়ে আছে শেষ দুই চরণে। জাগতিক কোনো ধন-সম্পদ নয়, […]