মন্ডা ক্লাবের কয়েকটি আমন্ত্রণপত্র – সুকুমার রায়
১ সম্পাদক বেয়াকুব কোথা যে দিয়েছে ডুব- এদিকেতে হায় হায় ক্লাবটি তো যায় যায়। তাই বলি সোমবারে মদগৃহে গড়পারে দিলে সবে পদধূলি ক্লাবটিরে ঠেলে তুলি। রকমারি পুঁথি কত নিজ নিজ রুচিমত আনিবেন সাথে সবে কিছু কিছু পাঠ হবে করযোড়ে বারবার নিবেদিছে সুকুমার। ২ কেউ বলেছে খাবো খাবো, কেউ বলেছে খাই সবাই মিলে গোল তুলেছে- আমি […]
মহাভারত: আদিপর্ব – সুকুমার রায়
কুরুকুলে পিতামহ ভীষ্মমহাশয় ভুবন বিজয়ী বীর, শুন পরিচয়- শান্তনু রাজার পুত্র নাম সত্যব্রত জগতে সার্থক নাম সত্যে অনুরত। স্বয়ং জননী গঙ্গা বর দিলা তাঁরে- নিজ ইচ্ছা বিনা বীর না মরে সংসারে। বুদ্বিভ্রংশ ঘটে হায় শান্তনু রাজার, বিবাহের লাগি বুড়া করে আবদার। মৎস্যরাজকন্যা আছে নামে সত্যবতী, তারে দেখি শান্তনুর লুপ্ত হল মতি। মৎস্যরাজ কহে, ‘রাজা, কর […]
বলব কি ভাই – সুকুমার রায়
সুকুমার রায়ের এই পঙ্ক্তিমালাটি তাঁর সিগনেচার ‘ননসেন্স রাইম’ বা আবোল-তাবোল শৈলীর এক মজাদার উদাহরণ। এখানে কবি অতি সাধারণ একটি ভ্রমণকে অদ্ভুত এক রসিকতায় রূপান্তর করেছেন। শুয়োরের মাথায় টুপি না থাকার মতো একটি অতি স্বাভাবিক বিষয়কে তিনি এমনভাবে ‘গোপন সংবাদ’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যা পাঠকের মনে নির্মল হাসির উদ্রেক করে। যুক্তির চশমা খুলে ফেলে নিছক কৌতুক […]
মাসি গো মাসি – সুকুমার রায়
সুকুমার রায়ের এই পঙ্ক্তিমালাটি বাংলা ‘অ্যাবসার্ড’ বা খামখেয়ালি সাহিত্যের এক চমৎকার উদাহরণ। নিছক হাস্যরস সৃষ্টির আড়ালে কবি এখানে যুক্তিহীন ও অসম্ভব সব ঘটনার অবতারণা করেছেন। নিম গাছে শিম হওয়া কিংবা হাতির মাথায় ব্যাঙের ছাতার মতো অসমঞ্জস দৃশ্যগুলো মূলত বাস্তবতার বাঁধন ছিঁড়ে নিটোল আনন্দের জগত তৈরি করে। সহজ ছন্দ ও অদ্ভুতুড়ে কল্পনার মাধ্যমে শিশুদের মনে কৌতুকবোধ […]
বাবু– সুকুমার রায়
বাবু– সুকুমার রায় অতি খাসা মিহি সূতি ফিনফিনে জামা ধুতি, চরণে লপেটা জুতি জরিদার । এ হাতে সোনার ঘড়ি, ও হাতে বাঁকান ছড়ি, আতরের ছড়াছড়ি চারিধার । চক্চকে চুল ছাঁটা তায় তোফা টেরিকাটা- সোনার চশমা আঁটা নাসিকায় । ঠোঁট দুটি এঁকে বেঁকে ধোঁয়া ছাড়ে থেকে থেকে, হালচাল দেখে দেখে হাসি পায় । ঘোষেদের ছোট মেয়ে […]
মূর্খ মাছি – সুকুমার রায়
মাকড়সা সান্-বাঁধা মোর আঙিনাতে জাল বুনেছি কালকে রাতে, ঝুল ঝেড়ে সব সাফ করেছি বাসা। আয় না মাছি আমার ঘরে, আরাম পাবি বসলে পরে, ফরাশ পাতা দেখবি কেমন খাসা! মাছি থাক্ থাক্ থাক্ আর বলে না, আন্কথাতে মন গলে না- ব্যবসা তোমার সবার আছে জানা। ঢুক্লে তোমার জালের ঘেরে কেউ কোনদিন আর কি ফেরে? বাপ্রে! সেথায় […]
বাবুরাম সাপুড়ে – সুকুমার রায়
সুকুমার রায়ের এই কালজয়ী ছড়াটি মূলত মানুষের মেকি বীরত্বের প্রতি এক চমৎকার বিদ্রূপ। এখানে একটি শিশু সাপুড়ের কাছে এমন এক অদ্ভুত সাপ চায়, যার কোনো বিষ বা হিংস্রতা নেই; যে কেবল দুধ-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকে। নির্বিষ ও নিরীহ প্রাণীকে পিটিয়ে ‘ঠাণ্ডা’ করার এই আবদার যেমন হাস্যকর, তেমনি এটি মানুষের কোনো ঝুঁকি না নিয়ে নিজেকে সাহসী […]
মেঘ – সুকুমার রায়
সাগর যেথা লুটিয়ে পড়ে নতুন মেঘের দেশে- আকাশ-ধোয়া নীল যেখানে সাগর জলে মেশে । মেঘের শিশু ঘুমায় সেথা আকাশ-দোলায় শুয়ে- ভোরের রবি জাগায় তারে সোনার কাঠি ছুঁয়ে । সন্ধ্যা সকাল মেঘের মেলা- কুলকিনারা ছাড়ি রং বেরঙের পাল তুলে দেয় দেশবিদেশে পাড়ি । মাথায় জটা, মেঘের ঘটা আকাশ বেয়ে ওঠে, জোছনা রাতে চাঁদের সাথে পাল্লা দিয়ে […]
বিবিধ – সুকুমার রায়
১ করে তাড়াহুড়ো বিষম চোট্ কিনেছি হ্যাট্ পরেছি কোট্, পেয়েছি passage এসেছে boat, বেঁধেছি তল্পি তুলেছি মোট্, বলেছে সবাই, “তা হলে ওঠ্, আসান্ এবার বিলেতে ছোট্।” তাই সভা হবে, বিদায় ভোট্, কাঁদ কাঁদ ভাবে ফুলিয়ে ঠোট্ হেথায় সকলে করিবে জোট্ (প্রোগ্রামটুকু করিও Note)। প্রোগ্রাম- শুক্র সন্ধ্যা সঠিক সাত- আহার, আমোদ, উল্কাপাত। ২ আসছে কাল, শনিবার […]
ভাল ছেলের নালিশ – সুকুমার রায়
ভাল ছেলের নালিশ – সুকুমার রায় মাগো! প্রসন্নটা দুষ্টু এমন! খাচ্ছিল সে পরোটা গুড় মাখিয়ে আরাম ক’রে বসে – আমায় দেখে একটা দিল ,নয়কো তাও বড়টা, দুইখানা সেই আপনি খেল ক’ষে! তাইতে আমি কান ধরে তার একটুখানি পেঁচিয়ে কিল মেরেছি ‘হ্যাংলা ছেলে’ বলে- অম্নি কিনা মিথ্যা করে ষাঁড়ের মত চেচিয়ে গেল সে তার মায়ের কাছে […]