পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি সারাংশ সারমর্ম

বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি কামিনী রায়ের ‘সুখ’ কবিতার এই অংশটি মানুষের আত্মত্যাগের মহিমা ও প্রকৃত সুখের সন্ধান দেয়। আমরা অনেক সময় নিজের ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ নিয়ে এতটাই মগ্ন থাকি যে, জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ভুলে যাই। আজ আমরা এই কালজয়ী কবিতার সারমর্ম ও এর শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করব।

পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি সারাংশ সারমর্ম লিখন

মূল কবিতা

পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি এ জীবন মন সকলি দাও,

তার মতো সুখ কোথাও কি আছে? আপনার কথা ভুলিয়া যাও।

পরের কারণে মরণেও সুখ, ‘সুখ-সুখ’ করি কেঁদো না আর;

যতই কাঁদিবে যতই ভাবিবে, ততই বাড়িবে হৃদয়-ভার।

আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী পরে

সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।

পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি সারমর্ম :

ব্যক্তিগত দুঃখ সন্তাপে হা-হুতাশ না করে বরং নিজের স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরের উপকার করার মধ্যেই প্রকৃত সুখ নিহিত। মানব জীবন ব্যক্তিস্বার্থকেন্দ্রিক নয়, একে অন্যের কল্যাণে ব্রতী হওয়াই মনুষ্যত্বের পরিচয়। শুধু নিজের সুখ অন্বেষণে কেউ প্রকৃত সুখী হতে পারে না। আত্মস্বার্থে মগ্ন না থেকে পরের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করলে প্রকৃত সুখ মেলে। মানবজীবন ব্যক্তিস্বার্থকেন্দ্রিক হওয়া ঠিক নয়। একে অন্যের কল্যাণে ব্রতী হওয়াই মনুষ্যত্বের ধর্ম।

বা

প্রকৃত সুখ নিজের জন্য ভোগবিলাসের মধ্যে নয়, বরং অন্যের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যে নিহিত। মানুষ কেবল নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য এই পৃথিবীতে আসেনি; বরং একে অপরের ওপর নির্ভরশীলতা এবং পরার্থপরতাই হলো মানুষের প্রকৃত ধর্ম। যারা কেবল নিজের ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তাদের হৃদয়ের বোঝা কেবল বৃদ্ধিই পায়। পক্ষান্তরে, নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে অন্যের উপকার করতে পারলে যে অনাবিল আনন্দ পাওয়া যায়, তার তুলনা নেই। অন্যের সুখের জন্য জীবন উৎসর্গ করার মাধ্যমেই সার্থক হয় মানবজীবন।

সারমর্ম লিখন: মূল শিক্ষণীয় পয়েন্টসমূহ

পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে বা বিষয়টি গভীরভাবে বুঝতে নিচের পয়েন্টগুলো লক্ষ্য করুন:

  • স্বার্থত্যাগ: নিজের স্বার্থকে বড় করে না দেখে পরের কল্যাণে জীবন ও মন উৎসর্গ করাই মহত্ত্ব।
  • প্রকৃত সুখের উৎস: অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে পারার মধ্যেই জীবনের শ্রেষ্ঠ সুখ লুকায়িত থাকে।
  • পরনির্ভরশীলতা: মানুষ সামাজিক জীব। “সকলের তরে সকলে আমরা”—এই দর্শনেই সমাজ টিকে থাকে।
  • ব্যক্তিস্বার্থ বর্জন: নিজের দুঃখ নিয়ে হা-হুতাশ করলে দুঃখ কেবল বাড়ে। আত্মকেন্দ্রিকতা ত্যাগ করলেই মানসিক শান্তি সম্ভব।

কামিনী রায়ের এই কবিতাটি আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, আত্মকেন্দ্রিকতা মানুষের মনকে ছোট করে দেয়, আর পরোপকার মানুষকে মহান করে। আমরা যদি প্রত্যেকের উপকারে এগিয়ে আসি, তবেই পৃথিবীটি সুন্দর ও সুখের হয়ে উঠবে।

তথ্যসূত্র: এই পাঠটি আমাদের ‘ভাষা ও শিক্ষা’ সিরিজের সারমর্ম ও বিরচন বিভাগের একটি অংশ। বাংলা সাহিত্যের আরও শিক্ষামূলক পাঠ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

আরও দেখুন:

মন্তব্য করুন