বাংলা গুরুকুল, GOLN

অবাক কাণ্ড কবিতা – সুকুমার রায়

শুন্‌ছ দাদা ! ঐ যে হোথায় বদ্যি বুড়ো থাকে, সে নাকি রোজ খাবার সময় হাত দিয়ে ভাত মাখে ? শুন্‌ছি নাকি খিদেও পায় সারা দিন না খেলে ? চক্ষু নাকি আপনি বোজে ঘুমটি তেমন পেলে ? চল্‌তে গেলে ঠ্যাং নাকি তার ভূঁয়ের পরে ঠেকে ? কান দিয়ে সব শোনে নাকি ? চোখ দিয়ে সব দেখে […]

অন্ধ মেয়ে কবিতা – সুকুমার রায়

“অন্ধ মেয়ে” সুকুমার রায়ের অন্যতম কাব্যরচনা, যা তাঁর ব্যঙ্গাত্মক, রসাত্মক এবং সমাজসচেতন লেখনশৈলীর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। সুকুমার রায় (১৮৮৭–১৯২৩) বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য স্রষ্টা, যিনি মূলত শিশু-কিশোর সাহিত্যে “অবল-তাবল”, “হযবরল” ও “পাগলা দাশু”-এর মতো অমর রচনা উপহার দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর সৃষ্টির ভাণ্ডারে রয়েছে এমন কিছু কবিতা ও গদ্য, যেখানে গভীর সামাজিক মন্তব্য ও মানবিক বোধ প্রকাশ […]

অতীতের ছবি কবিতা – সুকুমার রায়

সুকুমার রায় (১৮৮৭–১৯২৩) বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য প্রতিভা, যিনি তাঁর হাস্যরসাত্মক, ব্যঙ্গাত্মক ও ছন্দময় রচনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। “অতীতের ছবি” তাঁর একটি ব্যতিক্রমধর্মী কবিতা, যেখানে শৈশবের স্মৃতি, অতীত জীবনের ছবি এবং সেইসব মুহূর্তের আবেগময় প্রতিফলন ধরা পড়েছে। এই কবিতায় তিনি স্মৃতির ক্যানভাসে অতীতকে জীবন্ত করে তোলেন, যেন পাঠকের চোখের সামনে একেকটি দৃশ্য রঙিন ছবির মতো […]

মেঘের খেয়াল কবিতা – সুকুমার রায়

আকাশের ময়দানে বাতাসের ভরে, ছোট বড় সাদা কালো কত মেঘ চরে। কচি কচি থোপা থোপা মেঘেদের ছানা হেসে খেলে ভেসে যায় মেলে কচি ডানা। কোথা হতে কোথা যায় কোন্‌ তালে চলে, বাতাসের কানে কানে কত কথা বলে। বুড়ো বুড়ো ধাড়ি মেঘ ঢিপি হয়ে উঠে- শুয়ে ব’সে সভা করে সারাদিন জুটে। কি যে ভাবে চুপ্‌চাপ, কোন […]

রামগরুড়ের ছানা কবিতা – সুকুমার রায়

রামগরুড়ের ছানা হাসতে তাদের মানা, হাসির কথা শুনলে বলে, “হাস্‌ব না-না না-না” । সদাই মরে ত্রাসে- ঐ বুঝি কেউ হাসে ! এক চোখে তাই মিট্‌মিটিয়ে তাকায় আশে পাশে । ঘুম নাহি তার চোখে আপনি ব’কে ব’কে আপনারে কয়, “হাসিস্‌ যদি মারব কিন্তু তোকে !” যায় না বনের কাছে, কিম্বা গাছে গাছে, দখিন হাওয়ার সুড়্‌সুড়িতে হাসিয়ে […]

লক্ষ্মী কবিতা – সুকুমার রায়

হাত-পা-ভাঙা নোংরা পুতুল মুখটি ধুলোয় মাখা, গাল দুটি তার খাবলা-মতন চোখ দুটি তা কোথায় বা তার চুল বিনুনি কোথায় বা তার মাথা, আধখানি তার ছিন্ন জামা, গায় দিয়েছে কাঁথা। পুতুলের মা ব্যস্ত কেবল তার সেবাতেই রত খাওয়ান শোয়ান আদর করেন ঘুম ডেকে দেন কত। বলতে গেলাম, “বিশ্রী পুতুল” অম্‌নি বলেন রেগে— “লক্ষ্মী পুতুল, জ্বর হয়েছে […]

লড়াই-ক্ষ্যাপা কবিতা – সুকুমার রায়

ওই আমাদের পাগলা জগাই, নিত্যি হেথায় আসে ; আপন মনে গুন্‌ গুনিয়ে মুচকি হাসি হাসে । চলতে গিয়ে হঠাৎ যেন ধ্মক লেগে থামে, তড়াক্‌ করে লাফ দিয়ে যায় ডাইনে থেকে বামে । ভীষণ রোখে হাত গুটিয়ে সামলে নিয়ে কোঁচা ; “এইয়ো” বলে ক্ষ্যাপার মতো শূন্যে মারে খোঁচা । চেঁচিয়ে বলে, “ফাঁদ পেতেছ ? জগাই কি […]

লোভী ছেলে কবিতা – সুকুমার রায়

সুকুমার রায়ের এই কবিতাটি শৈশবের এক চিরন্তন ও মধুর দুষ্টুমিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। এখানে একটি ‘লোভী’ ছেলের মিষ্টির প্রতি তীব্র আকর্ষণকে কবি অত্যন্ত সরল ও কৌতুকপূর্ণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। কবিতার শুরুতে ছেলেটির আপন মনে হাসা এবং অস্ফুট বুলি বলার আড়ালে যে পরিকল্পনা কাজ করছিল, তা হলো মিষ্টি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। সে একলা বসে কেবল ‘চামচ চেটে’ তার […]

শব্দকল্পদ্রুম কবিতা – সুকুমার রায়

ঠাস্‌ ঠাস্‌ দ্রুম দ্রাম,শুনে লাগে খটকা– ফুল ফোটে? তাই বল! আমি ভাবি পট্‌কা! শাঁই শাঁই পন্‌ পন্‌, ভয়ে কান বন্ধ– ওই বুঝি ছুটে যায় সে-ফুলের গন্ধ? হুড়মুড় ধুপধাপ–ওকি শুনি ভাইরে! দেখ্‌ছনা হিম পড়ে– যেও নাকো বাইরে। চুপ চুপ ঐ শোন্‌! ঝুপ ঝাপ্‌ ঝপা-স! চাঁদ বুঝি ডুবে গেল? গব্‌ গব্‌ গবা-স! খ্যাঁশ্‌ খ্যাঁশ্‌ ঘ্যাঁচ্‌ ঘ্যাঁচ্‌ , […]

শুনেছ কি বলে গেল কবিতা – সুকুমার রায়

সুকুমার রায়ের ‘আবোল-তাবোল’ ধারার এই কবিতাটি মানুষের ইন্দ্রিয়জ অনুভূতির এক কৌতুকপূর্ণ ও অসম্ভব চিত্রকল্প। এখানে আকাশ কিংবা গন্ধের মতো বিমূর্ত বিষয়কে স্বাদ দিয়ে বিচার করার এক অদ্ভুত ‘ননসেন্স’ লজিক কাজ করেছে। আকাশের গন্ধ ‘টকটক’ হওয়া কিংবা বৃষ্টির পর তা ‘মিষ্টি’ হয়ে যাওয়ার বর্ণনাটি যেমন হাস্যকর, তেমনি তা যুক্তির বাইরের এক কল্পনার জগৎ তৈরি করে। সীতানাথ […]