বাংলা গুরুকুল, GOLN

ফস্‌‌কে গেল – সুকুমার রায়

ফস্‌‌কে গেল – সুকুমার রায় দেখ্‌ বাবাজি দেখ্‌‌বি নাকি দেখ্‌‌রে খেলা দেখ্‌ চালাকি, ভোজের বাজি ভেল্কি ফাঁকি পড়্‌ পড়্‌ পড়্‌ পড়্‌‌বি পাখি- ধপ্‌ ! লাফ দিয়ে তাই তালটি ঠুকে তাক ক’রে যাই তীর ধনুকে, ছাড়্‌ব সটান উর্ধ্বমুখে হুশ্‌ ক’রে তোর লাগবে বুকে- খপ্‌ ! গুড়্‌ গুড়্‌ গুড়্‌ গুড়িয়ে হামা খাপ্‌ পেতেছেন গোষ্ঠো মামা এগিয়ে আছেন […]

বড়াই – সুকুমার রায়

বড়াই – সুকুমার রায় গাছের গোড়ায় গর্ত করে ব্যাং বেঁধেছেন বাসা, মনের সুখে গাল ফুলিয়ে গান ধরেছেন খাসা। রাজার হাতি হাওদা -পিঠে হেলে দুলে আসে- বাপরে ব’লে ব্যাং বাবাজি গর্তে ঢোকেন ত্রাসে! রাজার হাতি মেজাজ ভারি হাজার রকম চাল ; হঠাৎ রেগে মটাং করে ভাঙল গাছের ডাল। গাছের মাথায় চড়াই পাখি অবাক হ’য়ে কয়- বাসরে […]

বদ্যি বুড়ো – সুকুমার রায়

বদ্যি বুড়ো – সুকুমার রায় শুন্‌ছ দাদা! ঐ যে হোথায় বদ্যি বুড়ো থাকে , সে নাকি রোজ খাবার সময় হাত দিয়ে ভাত মাখে? শুন্‌ছি নাকি খিদেও পায় সারাদিন না খেলে ? চক্ষু নাকি আপনি বোজে ঘুমটি তেমন পেলে ? চলতে গেলে ঠ্যাং নাকি তার ভুয়েঁর পরে ঠেকে? কান দিয়ে সব শোনে নাকি? চোখ দিয়ে সব […]

বন্দনা – সুকুমার রায়

বন্দনা – সুকুমার রায় নমি সত্য সনাতন নিত্য ধনে, নমি ভক্তিভরে নমি কায়েমনে। নমি বিশ্বচরাচর লোকপতে নমি সর্বজনাশ্রয় সর্বগতে। নমি সৃষ্টি-বিধারণ শক্তিধরে, নমি প্রাণপ্রবাহিত জীব জড়ে। তব জ্যোতিবিভাসিত বিশ্বপটে মহাশুন্যতলে তব নাম রটে। কত সিন্ধুতরঙ্গিত ছন্দ ভরে কত স্তব্ধ হিমাচল ধ্যান করে। কত সৌরভ সঞ্চিত পুষ্পদলে কত সূর্য বিলুন্ঠিত পাদতলে। কত বন্দনঝঙ্কৃত ভক্তচিতে নমি বিশ্ব […]

বর্ষ গেল বর্ষ এল – সুকুমার রায়

বর্ষ গেল বর্ষ এল – সুকুমার রায় বর্ষ গেল বর্ষ এল গ্রীষ্ম এলেন বাড়ি- পৃথ্বী এলেন চক্র দিয়ে এক বছরের পাড়ি । সত্যিকারের এই পৃথিবীর বয়স কেবা জানে, লক্ষ হাজার বছর ধরে চল্‌ছে একই টানে । আপন তালে আকাশ পথে আপনি চলে বেগে, গ্রীষ্মকালের তপ্তরোদে বর্ষাকালের মেঘে, শরৎকালের কান্নাহাসি হাল্কা বাদল হাওয়া, কুয়াশা-ঘেরা পর্দা ফেলে […]

বর্ষ শেষ – সুকুমার রায়

বর্ষ শেষ – সুকুমার রায় শুন রে আজব কথা, শুন বলি ভাইরে- বছরের আয়ু দেখ বেশিদিন নাই রে । ফেলে দিয়ে পুরাতন জীর্ণ এ খোলসে নূতন বরষ আসে, কোথা হতে বল সে ! কবে যে দিয়েছে চাবি জগতের যন্ত্রে, সেই দমে আজও চলে না জানি কি মন্ত্রে ! পাকে পাকে দিনরাত ফিরে আসে বার বার, […]

বর্ষার কবিতা – সুকুমার রায়

বর্ষার কবিতা – সুকুমার রায় কাগজ কলম লয়ে বসিয়াছি সদ্য, আষাঢ়ে লিখিতে হবে বরষার পদ্য । কি যে লিখি কি যে লিখি ভাবিয়া না পাই রে, হতাশে বসিয়া তাই চেয়ে থাকি বাইরে । সারাদিন ঘনঘটা কালো মেঘ আকাশে, ভিজে ভিজে পৃথিবীর মুখখানা ফ্যাকাশে । বিনা কাজে ঘরে বাঁধা কেটে যায় বেলাটা, মাটি হল ছেলেদের ফুটবল […]

সুকুমার রায় : এক ক্ষণজন্মা প্রতিভার পূর্ণাঙ্গ জীবনগাথা

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এমন কিছু প্রতিভা থাকেন যাঁদের তুলনা কেবল তাঁরা নিজেরাই। সুকুমার রায় ছিলেন তেমনই একজন অনন্যসাধারণ স্রষ্টা। তাঁকে কেবল একজন লেখক বা কবি হিসেবে চিহ্নিত করলে তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়; তিনি ছিলেন একাধারে ছড়াকার, গল্পকার, প্রাবন্ধিক, চিত্রশিল্পী, আলোকচিত্রী এবং মুদ্রণশিল্পের পথিকৃৎ। তাঁর হাত ধরেই বাংলা সাহিত্যে ‘ননসেন্স রাইম’ বা খেয়ালরসের সার্থক প্রবর্তন […]

জীবনের হিসাব কবিতা – সুকুমার রায়

“জীবনের হিসাব” কবিতাটি সুকুমার রায়-এর রচিত একটি ব্যতিক্রমধর্মী কবিতা, যেখানে হালকা হাস্যরসের আড়ালে জীবনের গভীর বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। শিশুসুলভ হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে কবিতাটিতে জীবনের সময়, কাজ, অবকাশ এবং ক্ষয়িষ্ণুতা নিয়ে এক সূক্ষ্ম দর্শন প্রকাশ পেয়েছে। সুকুমার রায় এই কবিতায় রসবোধ ও ছন্দের মোহনীয় সংমিশ্রণে দেখিয়েছেন, আমরা কিভাবে সময়ের হিসাব করতে গিয়ে নিজের অস্তিত্বের হিসাব ভুলে […]

আবোল তাবোল কবিতা – সুকুমার রায়

আবোল তাবোল

বাংলা শিশু-কিশোর সাহিত্যের এক অনন্য সৃষ্টি “আবোল তাবোল” হলো সুকুমার রায়ের অমর কাব্যসংকলন, যা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। ৫৩টি ছড়া ও কবিতার এই সংকলন মূলত “অর্থহীন” বা nonsense verse ধারার উদাহরণ, যেখানে ভাষার খেল, কল্পনার উন্মাদনা, ব্যঙ্গ-রস এবং চমকপ্রদ শব্দপ্রয়োগ পাঠককে এক স্বপ্নিল অথচ মজার জগতে নিয়ে যায়। এখানে খেঁকো, হেঁপো, কুমড়োপটাশ, […]