বাংলা গুরুকুল, GOLN

নদী – সুকুমার রায়

নদী – সুকুমার রায় হে পর্বত, যত নদী করি নিরীক্ষণ তোমাতেই করে তারা জনম গ্রহণ। ছোট বড় ঢেউ সব তাদের উপরে কল্ কল্ শব্দ করি সদা ক্রীড়া করে, সেই নদী বেকে চুরে যায় দেশে দেশে, সাগরেতে পড়ে গিয়া সকলের শেষে। পথে যেতে যেতে নদী দেখে কত শোভা, কি সুন্দর সেই সব কিবা মনোলোভা। কোথাও কোকিলে […]

আশ্চর্য ! – সুকুমার রায়

আশ্চর্য ! – সুকুমার রায় নিরীহ কলম, নিরীহ কালি, নিরীহ কাগজে লিখিল গালি – “বাঁদর বেকুব আজব হাঁদা বকাট্ ফাজিল অকাট্ গাধা।” আবার লিখিল কলম ধরি বচন মিষ্টি, যতন করি – “শান্ত মানিক শিষ্ট সাধু বাছারে, ধনরে, লক্ষ্মী যাদু।” মনের কথাটি ছিল যে মনে, রটিয়া উঠিল খাতার কোণে, আঁচড়ে আঁকিতে আখর ক’টি কেহ খুশী, কেহ […]

গ্রীষ্ম (সর্বনেশে গ্রীষ্ম) – সুকুমার রায়

গ্রীষ্ম (সর্বনেশে গ্রীষ্ম) – সুকুমার রায় সর্বনেশে গ্রীষ্ম এসে বর্ষশেষে রুদ্রবেশে আপন ঝোঁকে বিষম রোখে আগুন ফোঁকে ধরার চোখে। তাপিয়ে গগন কাঁপিয়ে ভুবন মাত্‌ল তপন নাচল পবন। রৌদ্র ঝলে আকাশতলে অগ্নি জ্বলে জলে স্থলে। ফেল্‌ছে আকাশ তপ্ত নিশাস ছুটছে বাতাস ঝলসিয়ে ঘাস, ফুলের বিতান শুকনো শ্মশান যায় বুঝি প্রাণ হায় ভগবান। দারুণ তৃষায় ফিরছে সবায় […]

নন্দগুপি – সুকুমার রায়

নন্দগুপি – সুকুমার রায় হঠাৎ কেন দুপুর রোদে চাদর দিয়ে মুড়ি, চোরের মতন নন্দগোপাল চল্‌ছে গুড়ি গুড়ি ? লুকিয়ে বুঝি মুখোশখানা রাখছে চুপি চুপি ? আজকে রাতে অন্ধকারে টেরটা পাবেন গুপি ! আয়না হাতে দাঁড়িয়ে গুপি হাসছে কেন খালি ? বিকট রকম পোশাক করে মাখ্‌ছে মুখে কালি ! এমনি করে লম্ফ দিয়ে ভেংচি যখন দেবে […]

আহ্লাদী – সুকুমার রায়

আহ্লাদী – সুকুমার রায় হাসছি মোরা হাসছি দেখ, হাসছি মোরা আহ্লাদী, তিনজনেতে জট্‌লা ক’রে ফোক্‌লা হাসির পাল্লা দি । হাসতে হাসতে আসছে দাদা, হাসছি আমি, হাসছে ভাই, হাসছি কেন কেউ জানে না, পাচ্ছে হাসি হাসছি তাই । ভাবছি মনে, হাসছি কেন ? থাকব হাসি ত্যাগ ক’রে, ভাবতে গিয়ে ফিকফিকিয়ে ফেল্‌ছি হাসি ফ্যাক্‌ ক’রে । পাচ্ছে […]

চলে হন্ হন্ – সুকুমার রায়

সুকুমার রায়ের এই বিখ্যাত ছড়াটি ধ্বন্যাত্মক শব্দের নিপুণ কারুকাজে সমৃদ্ধ। মাত্র দশটি ক্ষুদ্র চরণে কবি গতি, প্রকৃতি, শারীরিক অনুভূতি এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা চিত্রকে শব্দধ্বনির মাধ্যমে জীবন্ত করে তুলেছেন। ‘হনহন’, ‘পনপন’ বা ‘টনটন’-এর মতো শব্দের ঝঙ্কারে এখানে অর্থের চেয়ে অনুভূতিই প্রধান হয়ে উঠেছে। নিছক শব্দের খেলা ছাপিয়ে এটি ছন্দের এক অবিস্মরণীয় উৎসব, যা সব বয়সী […]

নাচন – সুকুমার রায়

সুকুমার রায়ের এই পঙ্ক্তিমালাটি তাঁর বিখ্যাত ‘ননসেন্স রাইম’ বা খামখেয়ালি ছন্দের এক প্রাণবন্ত রূপ। এখানে এক অদ্ভুত ও আনন্দময় জগতের ছবি আঁকা হয়েছে, যেখানে প্রকৃতির নিয়ম ছাপিয়ে উল্লাসই প্রধান। হুলো বিড়াল আর মেনী বিড়ালেরা যখন তাদের নিজস্ব সুরে বা ‘কালোয়াতীর তানে’ গান ধরে আর মনের সাধে নাচে, তখন সেই আনন্দে স্বয়ং চাঁদও শামিল হয়। চাঁদামামার […]

নিঃস্বার্থ – সুকুমার রায়

নিঃস্বার্থ – সুকুমার রায় গোপ্‌লাটা কি হিংসুটে মা ! খাবার দিলেম ভাগ করে, বললে নাকো মুখেও কিছু, ফেল্লে ছুঁড়ে রাগ করে । জ্যাঠাইমা যে মেঠাই দিলেন, “দুই ভায়েতে খাও” ব’লে— দশটি ছিল, একটি তাহার চাখতে নিলেম ফাও বলে । আর যে ন’টি, ভাগ করে তায়, তিন্‌টে দিলেম গোপ্‌লাকে— তবুও কেবল হ্যাংলা ছেলে আমার ভাগেই চোখ […]

নূতন বৎসর – সুকুমার রায়

নূতন বৎসর – সুকুমার রায় ‘নূতন বছর ! নূতন বছর !’ সবাই হাঁকে সকাল সাঁঝে আজকে আমার সূর্যি মামার মুখটি জাগে মনের মাঝে । মুস্কিলাসান করলে মামা, উস্কিয়ে তার আগুনখানি, ইস্কুলেতে লাগ্‌ল তালা, থাম্‌ল সাধের পড়ার ঘানি । এক্‌জামিনের বিষম ঠেলা চুক্‌ল রে ভাই ঘুচ্ল জ্বালা, নূতন সালের নূতন তালে হোক্‌ তবে আস ‘হকির’ পালা […]

পালোয়ান – সুকুমার রায়

পালোয়ান – সুকুমার রায় খেলার ছলে ষষ্ঠিচরণ হাতী লোফেন যখন তখন, দেহের ওজন উনিশটি মণ, শক্ত যেন লোহার গঠন । একদিন এক গুণ্ডা তাকে বাঁশ বাগিয়ে মার্‌ল বেগে— ভাঙল সে বাঁশ শোলার মত মট্‌ করে তার কনুই লেগে । এইত সেদিন রাস্তা দিয়ে চল্‌তে গিয়ে দৈব বশে, উপর থেকে প্রকাণ্ড ইট পড়্‌ল তাহার মাথায় খ’সে […]