বাংলা গুরুকুল, GOLN

সুকুমার রায়ের এই পঙ্ক্তিমালাটি তাঁর বিখ্যাত ‘ননসেন্স রাইম’ বা খামখেয়ালি ছন্দের এক প্রাণবন্ত রূপ। এখানে এক অদ্ভুত ও আনন্দময় জগতের ছবি আঁকা হয়েছে, যেখানে প্রকৃতির নিয়ম ছাপিয়ে উল্লাসই প্রধান। হুলো বিড়াল আর মেনী বিড়ালেরা যখন তাদের নিজস্ব সুরে বা ‘কালোয়াতীর তানে’ গান ধরে আর মনের সাধে নাচে, তখন সেই আনন্দে স্বয়ং চাঁদও শামিল হয়।

চাঁদামামার ঠাট্টাভরা হাসি আর চোখ টিপে বুড়োর চাল দেখার বর্ণনায় এক চমৎকার শিশুতোষ কৌতুক ফুটে উঠেছে। জড় ও জীবের মধ্যে এক কাল্পনিক মৈত্রীর মাধ্যমে কবি এখানে বাঁধভাঙ্গা আনন্দের জয়গান গেয়েছেন। যুক্তির তোয়াক্কা না করে নিছক সুর, ছন্দ আর হাসির খোরাক জোগানোই এই ছড়াটির সার্থকতা। এটি আমাদের প্রাত্যহিক একঘেয়েমি দূর করে এক কল্পনার উৎসবে মাতিয়ে তোলে।

নাচন – সুকুমার রায়

নাচ্ছি মোরা মনের সাধে গাচ্ছি তেড়ে গান
হুলো মেনী যে যার গলার কালোয়াতীর তান।
নাচ্ছি দেখে চাঁদা মামা হাস্‌ছে ভরে গাল
চোখটি ঠেরে ঠাট্টা করে দেখ্‌না বুড়োর চাল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।