জল থেকে ডাঙায় উঠে ওরা – জয় গোস্বামী
জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি চিরন্তন দেশভাগ, যুদ্ধ এবং উদ্বাস্তু জীবনের এক মর্মন্তুদ দলিল। এখানে সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের যাযাবর হওয়ার এক অন্তহীন মিছিলের ছবি আঁকা হয়েছে। ‘এক যুগ থেকে অন্য যুগে’ পালিয়ে চলা—বোঝায় যে, মানুষের এই নিরাপত্তাহীনতার সংকট ইতিহাসের কোনো নির্দিষ্ট সময়ে আটকে নেই; এটি নিরবচ্ছিন্ন। কবিতাটিতে একদিকে রয়েছে আধুনিক মারণাস্ত্র ‘ক্ষেপনাস্ত্র’, অন্যদিকে আদিম ‘তীর’। […]
কখনো চোখের জল – জয় গোস্বামী
কখনো চোখের জল – জয় গোস্বামী কখনো চোখের জল ফেলতে নেই ভাতের থালায় তাহলে সে-জল গিয়ে শ্রীভগবানের হাতে পড়ে হাতে ফোস্কা পড়ে যায়, তিনিও তো খেতে বসেছেন তাঁর সেদিন খাওয়া হয় না। তিন দিন হাতেব্যথা থাকে। শ্রমভাগ্যে যা এসেছে দুমুঠো চারমুঠো তাতে খুশি থাকতে হয় খুশি যদি না-ও থাকি তবুও ভাতের সামনে বসে অন্তত ভাতের […]
বালি খোঁড়ে আমার বৃশ্চিক – জয় গোস্বামী
বালি খোঁড়ে আমার বৃশ্চিক – জয় গোস্বামী বালি খোঁড়ে আমার বৃশ্চিক– রৌদ্রে তার অসুবিধা হয়। হাওয়ার, লোকের চাপে, বালি সরলে সে বেরিয়ে আসে। কাঁপাকাঁপা পায়ে তটের পাথর খুঁজে তার নীচে সুড়ঙ্গ বানায় শুধু রাত্রিবেলা তার আদিগন্ত ছড়ানো শরীর ভেসে ওঠে সমুদ্রের উপর-আকাশে তারকা নির্মিত দাড়া, অগ্নিময় দুটি পুচ্ছ-হুল খেয়ালখুশিতে সে নাড়ায় বসতি ঘুমোয়, শুধু জগতের […]
দোল : শান্তিনিকেতন – জয় গোস্বামী
দোল : শান্তিনিকেতন – জয় গোস্বামী ১ বকুল শাখা পারুল শাখা তাকাও কেন আমার দিকে? মিথ্যে জীবন কাটলো আমার ছাই লিখে আর ভস্ম লিখে – কী ক’রে আজ আবীর দেবো তোমাদের ওই বান্ধবীকে ! ২ শান্ত ব’লে জানতে আমায় ? কলঙ্কহীন, শুদ্ধ ব’লে ? কিন্তু আমি নরক থেকে সাঁতরে এলাম তখন আমার শরীর থেকে গরম […]
জননী এই আঙিনা – জয় গোস্বামী
আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি জয় গোস্বামীর এই ক্ষুদ্রায়তন পঙ্ক্তিমালাটি এক অপার্থিব রূপক আর মরমী চেতনার সংমিশ্রণ। এখানে কবি একটি চিরচেনা পারিবারিক আঙিনাকে মহাজাগতিক ও আধ্যাত্মিক ক্যানভাসে রূপান্তর করেছেন। কবিতাটিতে ‘জননী’ বা মা-কে তুলনা করা হয়েছে অবারিত ‘আঙিনা’র সঙ্গে, যা পরম আশ্রয়ের প্রতীক। তাঁরই স্নেহাশিসে সন্ততি আজ ‘বটচারা’র মতো দৃঢ় ও প্রাণবন্ত। এখানে ‘বাতাস’ […]
ওরা ভস্মমুখ – জয় গোস্বামী
ওরা ভস্মমুখ – জয় গোস্বামী ওরা ভস্মমুখ। ওরা নির্বাপিত। ওরা ধূম্রনাসা কাঠ অনেক পাঁকের নীচে আধপোড়া কাঠ হয়ে ওরা পালিয়ে ঘুরেছে কতক্ষণ। এক একটি ক্ষণের সঙ্গে এক এক শতক পার হল এখন আমার কাজ ওদের বিছানাগুলি খোঁড়া ওদের সযত্নে শুইয়ে গায়ে চাপা দেওয়া চাদর কম্বল নয়–মাটি ওরা মা বাবার মতো। ওদের অস্থি-র খোঁজ পেতে শত […]
বাংলার গা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে – জয় গোস্বামী
বাংলার গা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে – জয় গোস্বামী ১ বাংলার গা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে, রক্ত গড়িয়ে পড়ছে… কেউ ছুটে গেল খালের ওদিকে বুক ফাটা গলায় কার মা ডাকল : “রবি রে…” উত্তরের পরিবর্তে, অনেকের স্বর মিলে একটি প্রকাণ্ড হাহাকার ঘুরে উঠল… কে রবি? কে পুষ্পেন্দু? ভরত? কাকে খুঁজে পাওয়া গেছে? কাকে আর পাওয়া […]
দুখানি জানুর মতো খোলা – জয় গোস্বামী
জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি তীব্র চিত্রকল্প আর এক ধরনের নিষ্ঠুর সৌন্দর্যের মিশেল। এখানে সমর্পণ আর ধ্বংসের এক ভয়ঙ্কর অথচ অনিবার্য রূপ ফুটে উঠেছে। কবি ‘হাড়িকাঠ’ শব্দটিকে ব্যবহার করেছেন নিয়তি বা চরম বলিদানের প্রতীক হিসেবে। হাড়িকাঠের গঠনকে তিনি মানুষের ‘জানু’ বা হাঁটুর ভাঁজের সাথে তুলনা করে এক প্রকার আদিম ও জৈবিক আবহের সৃষ্টি করেছেন। এখানে আত্মসমর্পণের […]
জগতে আনন্দযজ্ঞে – জয় গোস্বামী
জগতে আনন্দযজ্ঞে – জয় গোস্বামী জগতে আনন্দযজ্ঞে পেয়েছি হাত সাফাইয়ের হাত মিলেছি চোর সাধু ডাকাত পেয়েছি হাত সাফাইয়ের হাত জগতে আনন্দযজ্ঞে জেনেছি নাচন কোঁদন সার কিছুতেই টলবে না সংসার কিছুতেই টলবে না সংসার জগতে আনন্দযজ্ঞে রাখিনি গুড় গুড় ঢাক ঢাক আমরা ভাত ছড়ালেই কাক আমরা ভাত ছড়ালেই কাক জগতে আনন্দযজ্ঞে যেখানে যা রাখবি তা রাখ […]
ওই যে বাড়ির তীরে কবর ওঠানো তার – জয় গোস্বামী
ওই যে বাড়ির তীরে কবর ওঠানো তার – জয় গোস্বামী ওই যে বাড়ির তীরে কবর ওঠানো তার ছায়াচরে ঘুমে শুরু হই আমার অতীতকাল জলে ডাক দিলো: ‘ওরে লগ্নে লগ্নে ফেরী ছেড়ে যায়’ গৃহমুণ্ডে যে-বায়স নুড়িমুখে বসে তার ‘কা’ ধ্বনিতে সকাল অজ্ঞান খেলনা দুর্গের সামনে যতবার হাবাখেলা উত্থাপন করি, বাজে টাকা যতই পালাতে যাই, ছাদ ভেঙে […]