বাংলা গুরুকুল, GOLN

বাদুড় বৃষ্টির মধ্যে দেবদারু গাছ ছেড়ে যায় – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি এক গা ছমছমে পরাবাস্তবতা এবং ক্ষয়ের চিত্রকল্প। এখানে ‘বাদুড়’ কেবল একটি প্রাণী নয়, বরং এমন এক সত্তার প্রতীক যা অন্যের প্রাণরস বা ‘রক্ত’ শোষণ করে পুষ্ট হয়। কিন্তু এই শোষণের পরিণতি শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ ও অন্তঃসারশূন্য। কবির রক্ত খেয়ে বাদুড়টি আকাশে পালালেও নিস্তার পায় না। চাঁদের মতো এক নির্মল ও চিরন্তন […]

তোমার পুরুষমুখে কাঁধ অবধি ঢুকিয়ে ছিলাম – জয় গোস্বামী

তোমার পুরুষমুখে কাঁধ অবধি ঢুকিয়ে ছিলাম – জয় গোস্বামী তোমার পুরুষমুখে কাঁধ অবধি ঢুকিয়ে ছিলাম এখন আঙরা-কালো কাঠকয়লা থেকে বাষ্প উড়ছে। সবদিকে মাথা দিয়ে ঢুঁসো মারি, বাতাসের অদৃশ্য দেওয়াল ফেটে ফেটে গলগল আগুন ওঠে। ও নিয়তিপুরুষ, এরপর অর্ধেক সিংহের রূপে তোমার বিপুল অবয়ব থাম ভেঙে একদিন আমার জানুতে আছড়ে পড়ে– আমার কলমে, নখে, ছিন্নভিন্ন হয়। […]

ছাদে জড়ভরত সন্তান – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই কবিতাটি এক অবাস্তব ও হাড়হিম করা দৃশ্যকল্পের মাধ্যমে মানবিক যন্ত্রণা এবং অস্তিত্বের হাহাকারকে মূর্ত করেছে। ‘ছাদে জড়ভরত সন্তান’ এক স্থবির ও প্রাণহীন প্রজন্মের প্রতীক, যার তৃষ্ণা এতই আদিম যে তার গলা অলৌকিকভাবে দীর্ঘ হয়ে দূরের পুকুরে জল খুঁজতে যায়। নিশুতি রাতের ‘কঙ্কাল ফেরিওয়ালা’ আর ‘মেঘের আলপথ’ কবিতাটিতে এক ভৌতিক ও পরাবাস্তব আবহ […]

ওই কালস্রোত – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি সময় বা ‘কালস্রোত’-এর অমোঘ ক্ষমতার সামনে মানুষের অসহায়ত্ব ও অস্তিত্বের সংকটকে ফুটিয়ে তুলেছে। কবি এখানে সময়ের স্রোতকে এক রাসায়নিক বা ক্ষতিকারক প্রবাহ হিসেবে কল্পনা করেছেন, যেখানে হাত ডোবাতেই আঙুল, কব্জি ও বাহু গলে নিঃশেষ হয়ে যায়। এই ক্ষয়িষ্ণু অবস্থার মধ্য দিয়ে কবি নিজেকে ‘হাত-পা-কাটা জগন্নাথ’ হিসেবে কল্পনা করেছেন—যা পূর্ণাঙ্গ হয়েও অপূর্ণ […]

বাড়িটি আকাশে ফুটে আছে – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি এক মায়াবী পরাবাস্তবতার চিত্রকল্প। এখানে পৃথিবী আর আকাশের দূরত্ব ঘুচে গিয়ে এক অলৌকিক শৈশব ও কল্পনার জগত তৈরি হয়েছে। কবি দেখছেন একটি বাড়ি যেন কোনো ফুল বা নক্ষত্রের মতো ‘আকাশে ফুটে আছে’, যা সাধারণ বাস্তবের ধরাছোঁয়ার বাইরে। বাড়ির ছাদে থাকা বালক-বালিকারা যেন এক অদ্ভুত খেলায় মত্ত। তারা সাধারণ ছিপ বা দড়ি […]

তোমাকে কাদার মধ্যে কাদাপাখি মনে করলাম – জয় গোস্বামী

তোমাকে কাদার মধ্যে কাদাপাখি মনে করলাম – জয় গোস্বামী তোমাকে কাদার মধ্যে কাদাপাখি মনে করলাম। মাছ খুঁজছ? লম্বা সরু ঠোঁট দিয়ে আমার খাবার জোগাড় করছ বুঝি? ওগো ও জননী পাখি, আমি স্বপ্নে ডাকি তোমার মা নাম তোমার জরায়ু-কলসী এখন তো শুকনো, শুধু বালিমাটি ভরা বুড়ি, তবু আমাকে একবার, হাত পা মুড়ে তোমার ডিমের মধ্যে শুয়ে […]

ছাই – জয় গোস্বামী

ছাই – জয় গোস্বামী ফাল্গুনের ক্ষত, যাও, অন্ধকারে পায়ে কুশ ফুটে তারা চিনে চিনে ফিরে এসো । এরপর ক্ষুদ্ধ হিম শুরু হয়ে যাবে এই শুয়ে থাকো পুরনো মরুতে । সারারাত্রি জেগে তুমি তৈরি করে নেবে না পিদিম ? কারো পা তীরের বালি মাড়িয়ে দৌড়েছে, আজ এই জলে তার একগাছি চুলও যদি ভেসে থাকে নেমে তাই […]

এসেছিলে, তবু আসো নাই – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই কবিতাটি হারানো মুহূর্তের এক বিষণ্ণ ও নান্দনিক উদ্‌যাপন। বৃষ্টির জমা জল আর ঢালু পথের রূপকে কবি নিজের জীবনের ‘অধোগামী’ বা ক্ষয়িষ্ণু অবস্থাকে তুলে ধরেছেন। জীবনের এই পড়ন্ত বেলায় কবির সামনে দিয়ে প্রিয়তমার সাবধানে জল পেরিয়ে চলে যাওয়াটি এক তীব্র বৈপরীত্য তৈরি করে। নারীর সেই সযত্ন পদক্ষেপ—যাতে জলের গায়েও আঘাত না লাগে—তা কবির […]

বলি – জয় গোস্বামী

বলি – জয় গোস্বামী অনামিকা কই? কাজল কোনদিকে গেল? সায়ন কোথায়? পিছনে তাকিয়ে দেখি সঙ্গে কেউ নেই প্রান্তরের মধ্যে এক যূপকাষ্ঠ—অর্ধেক প্রোথিত— ধারে কাছে কোনও ধড় নেই মুণ্ডুরা উধাও । ধুলোয় শোওয়ানো আছে খাঁড়া । চেনে চেনে লাগে বড় । ইতি পূর্বে দেখা হয়েছে কি? সত্তর – একাত্তর – বাহাত্তর সালে এঁদের দেখেছি বটে । […]

তুমি কি বিশ্বাসহন্তা – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি মানুষের অস্তিত্বের দ্বিধা, নৈতিক সংকট এবং নিয়তির এক নিদারুণ বৈপরীত্যের ছবি। কবি এখানে মানুষের মৌলিক চরিত্রের দ্বান্দ্বিকতা—‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বনাম ‘বিশ্বাস’—নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কবিতাটিতে জীবনকে দেখা হয়েছে এক সংকটময় সংযোগস্থল হিসেবে। মানুষের পিছু তাড়া করছে ধ্বংসের প্রতীক ‘জাঁতা’ ও ‘আগুনচক্র’, যা সময়ের নিষ্ঠুর পেষণ ও যন্ত্রণার ইঙ্গিত দেয়। অথচ সম্মুখে হাতছানি দিচ্ছে ‘সোনার […]