বাংলা গুরুকুল, GOLN

হনহন পনপন – সুকুমার রায়

সুকুমার রায়ের এই কালজয়ী ছড়াটি ধ্বন্যাত্মক শব্দের জাদুকরী ব্যবহারের এক অনন্য নিদর্শন। মাত্র দুটি শব্দের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পঙ্ক্তিতে কবি গতি, প্রকৃতি, অসুখ আর দৈনন্দিন জীবনের নানা অনুষঙ্গকে জীবন্ত করে তুলেছেন। ‘হনহন’, ‘টনটন’ বা ‘ঝনঝন’-এর মতো শব্দের ঝঙ্কারে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য এক আবহ তৈরি হয়েছে এখানে। নিছক শব্দের খেলা ছাপিয়ে এটি হয়ে উঠেছে ছন্দের এক অবিস্মরণীয় উৎসব, যা […]

কহ ভাই কহ রে – সুকুমার রায়

সুকুমার রায়ের এই পঙ্ক্তিমালাটি তাঁর চিরচেনা হাস্যরস ও ‘ননসেন্স’ লজিকের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। এখানে এক কাল্পনিক ‘অ্যাঁকা চোরা’ শহরের অদ্ভুত সব নিয়মের কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞ চিকিৎসকদের বা ‘বদ্যিদের’ আলুভাতে না খাওয়ার পেছনে কবি এক উদ্ভট বৈজ্ঞানিক কারণ দাঁড় করিয়েছেন। কাগজে লেখা সেই আজব তত্ত্ব অনুযায়ী, আলু খেলে নাকি মগজের ঘিলু নষ্ট হয়ে যায় এবং […]

জালা-কুঁজো সংবাদ – সুকুমার রায়

জালা-কুঁজো সংবাদ – সুকুমার রায় পেটমোটা জালা কয়, “হেসে আমি মরিরে কুঁজো তোর হেন গলা এতটুকু শরীরে!” কুঁজো কয়, “কথা কস্ আপনাকে না চিনে, ভুঁড়িখানা দেখে তোর কেঁদে আর বাঁচিনে।” জালা কয়, “সাগরের মাপে গড়া বপুখান, ডুবুরিরা কত তোলে তবু জল অফুরান।” কুঁজো কয়, “ভালো কথা ! তবে যদি দৈবে, ভুঁড়ি যায় ভেস্তিয়ে, জল কোথা […]

কাঁদুনে – সুকুমার রায়

কাঁদুনে – সুকুমার রায় ছিঁচ্ কাঁদুনে মিচ্‌কে যারা শস্তা কেঁদে নাম কেনে, ঘ্যাঙায় শুধু ঘ্যার্ন ঘ্যার্ন ঘ্যান্ঘ্যানে আর প্যান্‌প‌্যানে- কুঁকিয়ে কাঁদে খিদের সময়, ফুঁপিয়ে কাঁদে ধম্‌কালে, কিম্বা হঠাৎ লাগলে ব্যথা, কিম্বা ভয়ে চমকালে; অল্পে হাসে অল্পে কাঁদে কান্না থামায় অল্পেতেই , মায়ের আদর দুধের বোতল কিম্বা দিদির গল্পেতেই – তারেই বলি মিথ্যে কাঁদন; আসল কান্না […]

টিক্‌ টিক্‌ টং – সুকুমার রায়

সুকুমার রায়ের এই ছড়াটি মূলত বিশ্ববিখ্যাত ইংরেজি নার্সারি রাইম ‘Hickory Dickory Dock’-এর এক অনবদ্য বাংলা রূপান্তর। এখানে সময়ের প্রতীক হিসেবে ঘড়ির ‘টিক্‌ টিক্‌’ ধ্বনি আর একটি চঞ্চল ইঁদুরের কর্মকাণ্ডকে অত্যন্ত সহজ ও ছন্দময়ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ইঁদুরটি কৌতূহলবশত ঘড়ির ওপর চড়লেও, ঘড়ির সেই গম্ভীর ‘টং’ শব্দে সে ঘাবড়ে যায় এবং লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যায়। এই […]

কানা-খোঁড়া সংবাদ – সুকুমার রায়

কানা-খোঁড়া সংবাদ – সুকুমার রায় পুরাতন কালে ছিল দুই রাজা, নাম ধাম নাহি জানা, একজন তার খোড়া অতিশয়, অপর ভূপতি কানা। মন ছিল খোলা, অতি আলো ভোলা ধরমেতে ছিল মতি, পর ধনে সদা ছিল দোঁহাকার বিরাগ বিকট অতি। প্রতাপের কিছু নাহি ছিল ত্রুটি মেজাজ রাজারি মত, শুনেছি কেবল, বুদ্ধিটা নাকি নাহি ছিল সরু তত, ভাই […]

টুকরো ছড়া – সুকুমার রায়

টুকরো ছড়া – সুকুমার রায় তিন বুড়ো পন্ডিত টাকচুড়ো নগরে চ’ড়ে এক গামলায় পাড়ি দেয় সাগরে। গাম‌্‌লাতে ছেঁদা আগে কেউ দেখনি, গানখানি তাই মোর থেমে গেল এখনি।। ম্যাও ম্যাও হুলোদাদা, তোমার যে দেখা নাই? গেছিলাম রাজপুরী রানীমার সাথে ভাই! “তাই নাকি? বেশ বেশ, কি দেখেছ সেখানে?” দেখেছি ইদুর এক রানীমার উঠানে।।” গাধাটার বুদ্ধি দেখ!- চাঁট […]

কিছু চাই? – সুকুমার রায়

কিছু চাই? – সুকুমার রায় কারোর কিছু চাই গো চাই? এই যে খোকা, কি নেবে ভাই ? জলছবি আর লাট্টু লাটাই কেক বিস্কুট লাল দেশলাই খেলনা বাঁশি কিংবা ঘুড়ি লেড্‌ পেনসিল রবার ছুরি ? এসব আমার কিছুই নাই, কারোর কিছু চাই গো চাই ? কারোর কিছু চাই গো চাই ? বৌমা কি চাও শুনতে পাই […]

ট্যাঁশ গরু – সুকুমার রায়

ট্যাঁশ গরু – সুকুমার রায় ট্যাঁশ গরু গরু নয়, আসলেতে পাখি সে ; যার খুশি দেখে এস হারুদের আফিসে । চোখ দুটি ঢুলু ঢুলু, মুখখানা মস্ত, ফিট্‌ফাট্‌ কালোচুলে টেরিখানা চোস্ত । তিন-বাঁকা শিং তার, ল্যাজখানি প্যাঁচান- একটুকু ছোও যদি, বাপ্‌রে কি চ্যাঁচান ! লট্‌খটে হাড়গোড় খট্‌খট্‌ ন’ড়ে যায়, ধম্‌কালে ল্যাগ্‌ব্যাগ্‌ চমকিয়ে প’ড়ে যায় । বর্ণিতে […]

কিম্ভূত! – সুকুমার রায়

কিম্ভূত! – সুকুমার রায় বিদ্‌ঘুটে জানোয়ার কিমাকার কিম্ভূত, সারাদিন ধ’রে তার শুনি শুধু খুঁতখুঁত ৷ মাঠপারে ঘাটপারে কেঁদে মরে খালি সে, ঘ্যান্‌ ঘ্যান্ আব্‌দারে ঘন ঘন নালিশে ৷ এটা চাই সেটা চাই কত তার বায়না— কি যে চায় তাও ছাই বোঝা কিছু যায় না ৷ কোকিলের মত তার কন্ঠেতে সুর চাই, গলা শুনে আপনার, বলে, […]