বাংলা গুরুকুল, GOLN

আলোছায়া – সুকুমার রায়

সুকুমার রায়ের এই পঙ্ক্তিমালাটি মানুষের বিষণ্ণতা ও মনের সংকীর্ণতাকে এক চমৎকার রূপকের মাধ্যমে তুলে ধরেছে। কবি এখানে এমন এক ‘কালো ছায়া’ বা মনের অন্ধকারের কথা বলেছেন, যা বাইরের রোদে দূর হয় না। এই অন্ধকার আসলে মানুষের কঠিন ও শুষ্ক মনোভাবের প্রতীক। কবি এক গভীর সত্য প্রকাশ করেছেন—যতই কঠিন বা ধোঁয়াটে দুঃখ হোক না কেন, তাতে […]

একুশে আইন – সুকুমার রায়

একুশে আইন – সুকুমার রায় শিবঠাকুরের আপন দেশে , আইন কানুন সর্বনেশে! কেউ যদি যায় পিছলে প’ড়ে, প্যায়দা এসে পাক্‌‌ড়ে ধরে , কাজির কাছে হয় বিচার- একুশ টাকা দন্ড তার।। সেথায় সন্ধে ছটার আগে হাঁচতে হলে টিকিট লাগে হাঁচলে পরে বিন্ টিকিটে দম‌্দমাদম্ লাগায় পিঠে , কোটাল এসে নস্যি ঝাড়ে- একুশ দফা হাচিয়ে মারে।। কারুর […]

ছবি ও গল্প – সুকুমার রায়

ছবি ও গল্প – সুকুমার রায় ছবির টানে গল্প লিখি নেইক এতে ফাঁকি যেমন ধারা কথায় শুনি হুবহু তাই আঁকি । পরীক্ষাতে গোল্লা পেয়ে হাবু ফেরেন বাড়ি চক্ষু দুটি ছানাবড়া মুখখানি তার হাঁড়ি রাগে আগুন হলেন বাবা সকল কথা শুনে আচ্ছা ক’রে পিটিয়ে তারে দিলেন তুলো ধুনে মারের চোটে চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় ক’রে তোলে শুনে […]

নারদ! নারদ! – সুকুমার রায়

নারদ! নারদ! – সুকুমার রায় “হ্যাঁরে হ্যাঁরে তুই নাকি কাল সাদাকে বলেছিলি লাল ? (আর) সেদিন নাকি রাত্রি জুড়ে নাক ডেকেছিস বিশ্রী সুরে ? (আর) তোদের পোষা বেড়ালগুলো শুন্‌‌ছি নাকি বেজায় হুলো ? (আর) এই যে শুনি তোদের বাড়ি কেউ নাকি রাখেনা দাড়ি ? ক্যান্‌ রে ব্যাটা ইসটুপিড ? ঠেঙিয়ে তোরে করব ঢিট্‌ !” “চোপরাও […]

ও বাবা ! – সুকুমার রায়

ও বাবা ! – সুকুমার রায় পড়তে বসে মুখের পরে কাগজ খানি থুয়ে রমেশ ভায়া ঘুমোয় পড়ে আরাম ক’রে শুয়ে। শুনছ নাকি ঘড়র্ ঘড়র্ নাক ডাকার ধুম? সখ যে বড় বেজায় দেখি- দিনের বেলায় ঘুম! বাতাস পোরা এই যে থলি দেখ্‌ছ আমার হাতে, দুড়ম করে পিট্‌লে পরে শব্দ হবে তাতে। রমেশ ভায়া আঁতকে উঠে পড়বে […]

ছুটি (ঘুচবে জ্বালা) – সুকুমার রায়

ছুটি (ঘুচবে জ্বালা) – সুকুমার রায় ঘুচবে জ্বালা পুঁথির পালা ভাবছি সারাক্ষণ- পোড়া স্কুলের পড়ার পরে আর কি বসে মন ? দশটা থেকেই নষ্ট খেলা, ঘণ্টা হতেই শুরু প্রাণটা করে ‘পালাই পালাই’ মনটা উড়ু উড়ু— পড়ার কথা খাতায়, পাতায়, মাথায় নাহি ঢোকে! মন চলে না- মুখ চলে যায় আবোলতাবোল ব’কে! কানটা ঘোরে কোন্‌ মুলুকে হুঁশ […]

নিরুপায় – সুকুমার রায়

নিরুপায় – সুকুমার রায় বসি বছরের পয়লা তারিখে মানের খাতায় রাখিলাম লিখে- “সহজ উদরে ধরিবে যেটুক্‌, সেইটুকু খাব হব না পেটুক ।” মাস দুই যেতে খাতা খুলে দেখি, এরি মাঝে মন লিখিয়াছে একি ! লিখিয়াছে, “যদি নেমন্তন্নে কেঁদে ওঠে প্রাণ লুচির জন্যে, উচিত কি হবে কাঁদান তাহারে ? কিম্বা যখন বিপুল আহারে, তেড়ে দেয় পাতে […]

কত বড় – সুকুমার রায়

সুকুমার রায়ের এই কবিতাটি শিশুর কৌতূহলী চোখ দিয়ে বিশ্বকে দেখার এক চমৎকার রূপক। একটি ক্ষুদ্র ইঁদুর ছানা, যার জগত কেবল একটি অন্ধকার ‘দেরাজের কোণ’ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ, তার মাধ্যমেই কবি বড় হয়ে ওঠার এবং জানার প্রক্রিয়াকে ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রাথমিকভাবে অন্ধ ইঁদুর ছানাটি মনে করত তার মায়ের কোল আর ওই ধুলোমাখা কোণটুকুই তার সম্পূর্ণ জগত। কিন্তু যখন […]

ছুটি (ছুটি ছুটি ছুটি) – সুকুমার রায়

ছুটি (ছুটি ছুটি ছুটি) – সুকুমার রায় ছুটি! ছুটি! ছুটি! মনের খুশি রয়না মনে হেসেই লুটোপুটি। ঘুচল এবার পড়ার তাড়া অঙ্ক কাটাকুটি দেখ্‌ব না আর পন্ডিতের ঐ রক্ত আঁখি দুটি। আর যাব না স্কুলের পানে নিত্য গুটি গুটি এখন থেকে কেবল খেলা কেবল ছুটোছুটি। পাড়ার লোকের ঘুম ছুটিয়ে আয়রে সবাই জুটি গ্রীষ্মকালের দুপুর রোদে গাছের […]

কলিকাতা কোথা রে – সুকুমার রায়

কলিকাতা কোথা রে – সুকুমার রায় গিরিধি আরামপুরী, দেহ মন চিৎপাত, খেয়ে শুয়ে হু হু করে কেটে যায় দিনরাত; হৈ চৈ হাঙ্গামা হুড়োতাড়া হেথা নাই; মাস বার তারিখের কোন কিছু ল্যাঠা নেই; খিদে পেলে তেড়ে খাও, ঘুম পেলে ঘুমিও- মোট কথা, কি আরাম, বুঝলে না তুমিও ! ভুলেই গেছিনু কোথা এই ধরা মাঝেতে আছে যে […]