বাংলা গুরুকুল, GOLN

জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি এক গা ছমছমে পরাবাস্তবতা এবং ক্ষয়ের চিত্রকল্প। এখানে ‘বাদুড়’ কেবল একটি প্রাণী নয়, বরং এমন এক সত্তার প্রতীক যা অন্যের প্রাণরস বা ‘রক্ত’ শোষণ করে পুষ্ট হয়। কিন্তু এই শোষণের পরিণতি শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ ও অন্তঃসারশূন্য।

কবির রক্ত খেয়ে বাদুড়টি আকাশে পালালেও নিস্তার পায় না। চাঁদের মতো এক নির্মল ও চিরন্তন সৌন্দর্যের ওপর সে যখন হুমড়ি খেয়ে পড়ে, তখন তার ভেতরকার কদর্যতা উন্মোচিত হয়। সবচেয়ে চমকপ্রদ মোচড়টি আসে শেষ চরণে—বাদুড়ের পেট থেকে রক্ত নয়, বের হয়ে আসে ‘বালি’। এটি মূলত শোষক বা পরজীবীর চরম শূন্যতাকে নির্দেশ করে। যা কিছু সে গ্রাস করেছিল, তা জীবনদায়ী রক্ত হয়ে থাকেনি, বরং প্রাণহীন বালিতে পরিণত হয়েছে। এটি একাধারে শোষণের অসারতা এবং সৃষ্টির বিপরীতে এক বন্ধ্যা ও শুষ্ক বাস্তবতার প্রতীক। কবি এখানে জীবন ও মৃত্যুর এক অদ্ভুত রসায়ন ফুটিয়ে তুলেছেন।

বাদুড় বৃষ্টির মধ্যে দেবদারু গাছ ছেড়ে যায় – জয় গোস্বামী

বাদুড় বৃষ্টির মধ্যে দেবদারু গাছ ছেড়ে যায়

বাদুড় আমার রক্ত খেয়ে
আকাশে পালায়

পালিয়ে বাঁচে না

রাত্রে দেখা যায়
বাদুড় চাঁদের মধ্যে হুমড়ি খেয়ে পড়ে
পেট থেকে রক্ত, রক্ত নয়, বালি ওগরায়

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।