বাংলা গুরুকুল, GOLN

গ্রীষ্ম (সর্বনেশে গ্রীষ্ম) – সুকুমার রায়

গ্রীষ্ম (সর্বনেশে গ্রীষ্ম) – সুকুমার রায় সর্বনেশে গ্রীষ্ম এসে বর্ষশেষে রুদ্রবেশে আপন ঝোঁকে বিষম রোখে আগুন ফোঁকে ধরার চোখে। তাপিয়ে গগন কাঁপিয়ে ভুবন মাত্‌ল তপন নাচল পবন। রৌদ্র ঝলে আকাশতলে অগ্নি জ্বলে জলে স্থলে। ফেল্‌ছে আকাশ তপ্ত নিশাস ছুটছে বাতাস ঝলসিয়ে ঘাস, ফুলের বিতান শুকনো শ্মশান যায় বুঝি প্রাণ হায় ভগবান। দারুণ তৃষায় ফিরছে সবায় […]

নন্দগুপি – সুকুমার রায়

নন্দগুপি – সুকুমার রায় হঠাৎ কেন দুপুর রোদে চাদর দিয়ে মুড়ি, চোরের মতন নন্দগোপাল চল্‌ছে গুড়ি গুড়ি ? লুকিয়ে বুঝি মুখোশখানা রাখছে চুপি চুপি ? আজকে রাতে অন্ধকারে টেরটা পাবেন গুপি ! আয়না হাতে দাঁড়িয়ে গুপি হাসছে কেন খালি ? বিকট রকম পোশাক করে মাখ্‌ছে মুখে কালি ! এমনি করে লম্ফ দিয়ে ভেংচি যখন দেবে […]

আহ্লাদী – সুকুমার রায়

আহ্লাদী – সুকুমার রায় হাসছি মোরা হাসছি দেখ, হাসছি মোরা আহ্লাদী, তিনজনেতে জট্‌লা ক’রে ফোক্‌লা হাসির পাল্লা দি । হাসতে হাসতে আসছে দাদা, হাসছি আমি, হাসছে ভাই, হাসছি কেন কেউ জানে না, পাচ্ছে হাসি হাসছি তাই । ভাবছি মনে, হাসছি কেন ? থাকব হাসি ত্যাগ ক’রে, ভাবতে গিয়ে ফিকফিকিয়ে ফেল্‌ছি হাসি ফ্যাক্‌ ক’রে । পাচ্ছে […]

চলে হন্ হন্ – সুকুমার রায়

সুকুমার রায়ের এই বিখ্যাত ছড়াটি ধ্বন্যাত্মক শব্দের নিপুণ কারুকাজে সমৃদ্ধ। মাত্র দশটি ক্ষুদ্র চরণে কবি গতি, প্রকৃতি, শারীরিক অনুভূতি এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা চিত্রকে শব্দধ্বনির মাধ্যমে জীবন্ত করে তুলেছেন। ‘হনহন’, ‘পনপন’ বা ‘টনটন’-এর মতো শব্দের ঝঙ্কারে এখানে অর্থের চেয়ে অনুভূতিই প্রধান হয়ে উঠেছে। নিছক শব্দের খেলা ছাপিয়ে এটি ছন্দের এক অবিস্মরণীয় উৎসব, যা সব বয়সী […]

নাচন – সুকুমার রায়

সুকুমার রায়ের এই পঙ্ক্তিমালাটি তাঁর বিখ্যাত ‘ননসেন্স রাইম’ বা খামখেয়ালি ছন্দের এক প্রাণবন্ত রূপ। এখানে এক অদ্ভুত ও আনন্দময় জগতের ছবি আঁকা হয়েছে, যেখানে প্রকৃতির নিয়ম ছাপিয়ে উল্লাসই প্রধান। হুলো বিড়াল আর মেনী বিড়ালেরা যখন তাদের নিজস্ব সুরে বা ‘কালোয়াতীর তানে’ গান ধরে আর মনের সাধে নাচে, তখন সেই আনন্দে স্বয়ং চাঁদও শামিল হয়। চাঁদামামার […]

একুশে আইন – সুকুমার রায়

একুশে আইন – সুকুমার রায় শিবঠাকুরের আপন দেশে , আইন কানুন সর্বনেশে! কেউ যদি যায় পিছলে প’ড়ে, প্যায়দা এসে পাক্‌‌ড়ে ধরে , কাজির কাছে হয় বিচার- একুশ টাকা দন্ড তার।। সেথায় সন্ধে ছটার আগে হাঁচতে হলে টিকিট লাগে হাঁচলে পরে বিন্ টিকিটে দম‌্দমাদম্ লাগায় পিঠে , কোটাল এসে নস্যি ঝাড়ে- একুশ দফা হাচিয়ে মারে।। কারুর […]

ছবি ও গল্প – সুকুমার রায়

ছবি ও গল্প – সুকুমার রায় ছবির টানে গল্প লিখি নেইক এতে ফাঁকি যেমন ধারা কথায় শুনি হুবহু তাই আঁকি । পরীক্ষাতে গোল্লা পেয়ে হাবু ফেরেন বাড়ি চক্ষু দুটি ছানাবড়া মুখখানি তার হাঁড়ি রাগে আগুন হলেন বাবা সকল কথা শুনে আচ্ছা ক’রে পিটিয়ে তারে দিলেন তুলো ধুনে মারের চোটে চেঁচিয়ে বাড়ি মাথায় ক’রে তোলে শুনে […]

নারদ! নারদ! – সুকুমার রায়

নারদ! নারদ! – সুকুমার রায় “হ্যাঁরে হ্যাঁরে তুই নাকি কাল সাদাকে বলেছিলি লাল ? (আর) সেদিন নাকি রাত্রি জুড়ে নাক ডেকেছিস বিশ্রী সুরে ? (আর) তোদের পোষা বেড়ালগুলো শুন্‌‌ছি নাকি বেজায় হুলো ? (আর) এই যে শুনি তোদের বাড়ি কেউ নাকি রাখেনা দাড়ি ? ক্যান্‌ রে ব্যাটা ইসটুপিড ? ঠেঙিয়ে তোরে করব ঢিট্‌ !” “চোপরাও […]

ও বাবা ! – সুকুমার রায়

ও বাবা ! – সুকুমার রায় পড়তে বসে মুখের পরে কাগজ খানি থুয়ে রমেশ ভায়া ঘুমোয় পড়ে আরাম ক’রে শুয়ে। শুনছ নাকি ঘড়র্ ঘড়র্ নাক ডাকার ধুম? সখ যে বড় বেজায় দেখি- দিনের বেলায় ঘুম! বাতাস পোরা এই যে থলি দেখ্‌ছ আমার হাতে, দুড়ম করে পিট্‌লে পরে শব্দ হবে তাতে। রমেশ ভায়া আঁতকে উঠে পড়বে […]

ছুটি (ঘুচবে জ্বালা) – সুকুমার রায়

ছুটি (ঘুচবে জ্বালা) – সুকুমার রায় ঘুচবে জ্বালা পুঁথির পালা ভাবছি সারাক্ষণ- পোড়া স্কুলের পড়ার পরে আর কি বসে মন ? দশটা থেকেই নষ্ট খেলা, ঘণ্টা হতেই শুরু প্রাণটা করে ‘পালাই পালাই’ মনটা উড়ু উড়ু— পড়ার কথা খাতায়, পাতায়, মাথায় নাহি ঢোকে! মন চলে না- মুখ চলে যায় আবোলতাবোল ব’কে! কানটা ঘোরে কোন্‌ মুলুকে হুঁশ […]