বাংলা গুরুকুল, GOLN

কোনো জাতির সামগ্রিক জাতীয় অগ্রগতি, আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধি এবং মানবিক আত্মমর্যাদা অর্জনের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো শিক্ষা। শিক্ষা কেবল ব্যক্তির ভেতরের আলো জাগ্রত করে না, বরং পুরো সমাজব্যবস্থাকে অন্ধকার, অন্ধবিশ্বাস, দারিদ্র্য ও অনগ্রসরতা থেকে মুক্ত করে একটি বিশ্বমানের চেতনায় উন্নীত করে। আর সেই শিক্ষার মূল ভিত্তি বা প্রবেশদ্বার হলো প্রাথমিক শিক্ষা।

স্বাধীন দেশে সুশাসন, ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রগতির সোপান নিশ্চিত করতে হলে প্রয়োজন ‘সবার জন্য শিক্ষা’। দেশের বিরাট জনগোষ্ঠী যদি অশিক্ষিত ও অনুন্নত থাকে, তবে ভৌত অবকাঠামোর প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ঘটিয়েও কোনো জাতি স্থায়ী অগ্রগতি অর্জন করতে পারে না। তাই একটি শিক্ষিত, নীতিবান, মর্যাদাসম্পন্ন ও আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ে তোলার মূল চাবিকাঠি হলো—বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি ও সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার শতভাগ ও সফল বাস্তবায়ন।

“একটি দেশের বা রাষ্ট্রের আসল ভিত্তি হলো তার যুবসমাজ ও শিশুদের উপযুক্ত শিক্ষা।”
— ডায়োজিনিস (গ্রিক দার্শনিক)

Table of Contents

প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব ও অন্তর্নিহিত মানবীয় দর্শন

যে কোনো দেশের জনসংখ্যাকে অসংগঠিত অবস্থা থেকে দক্ষ ‘মানবসম্পদে’ রূপান্তর করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বিকল্প নেই। আর প্রাথমিক শিক্ষা হলো সেই সুবিশাল শিক্ষাসৌধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিপ্রস্তর বা নিম্নতম নিম্ন সোপান।

১. ব্যক্তিত্ব ও মেধার বিকাশ

প্রাথমিক শিক্ষার বয়সেই (সাধারণত ৫ থেকে ১১ বছর) শিশুর মস্তিষ্ক ও মানসিক বৃত্তির সর্বাধিক বিকাশ ঘটে। এই পর্যায়ে বর্ণ পরিচয়, গণিতের মৌলিক ধারণা, ভাষা প্রয়োগ এবং পরিবেশের সাথে পরিচয় ঘটানোর মাধ্যমে শিশুর সুপ্ত সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে। তার দৈহিক, মানসিক, নান্দনিক ও নৈতিক বৈশিষ্ট্যের ভিত এই পাঠশালাতেই রচিত হয়।

২. অশিক্ষা ও সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ

সমাজ থেকে অশিক্ষা, দারিদ্র্য, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, বাল্যবিয়ে এবং সংকীর্ণতার মতো সামাজিক ব্যাধিগুলোকে নির্মূল করার একমাত্র মাধ্যম হলো সার্বজনীন শিক্ষা। প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ আবুল ফজল যথার্থই উল্লেখ করেছিলেন:

“শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো জাতি গড়ার কারখানা, আর রাষ্ট্র ও সমাজদেহের সব চাহিদার সরবরাহ কেন্দ্র। এখানে ত্রুটি ঘটলে জাতিকে দুর্বল আর পশুর সমকক্ষ না করে ছাড়বে না।”

৩. সুশীল সমাজ ও বিশ্বমানের নাগরিক তৈরি

উচ্চশিক্ষা সবার জন্য অর্জন করা সম্ভব নাও হতে পারে, তবে মৌলিক প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিটি নাগরিকের সংবিধানসম্মত ও জন্মগত অধিকার। শিশুকালেই সুস্থ আচরণ, শৃঙ্খলা, সততা ও দায়িত্ববোধের চর্চা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুরু হয়। কালজয়ী রুশ সাহিত্যিক লিও তলস্তোয় শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে চমৎকার বলেছিলেন—“মানুষকে প্রকৃত অর্থে সভ্য করে তোলার একমাত্র পরম মাধ্যম হচ্ছে বিদ্যালয়।”

বাধ্যতামূলক ও সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার ঐতিহাসিক পটভূমি

বাংলাসহ সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে সার্বজনীন ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রসারের ইতিহাস বহু বছরের আন্দোলন, কমিশন ও প্রচেষ্টার ফসল:

ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের উল্লেখযোগ্য মাইলফলক:

  • ১৮৫৪ সালের উডস ডেসপাস (Wood’s Despatch): ভারতে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরে সুসংগঠিত শিক্ষার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে উডের ডেসপাস, যাকে ভারতীয় শিক্ষার ‘ম্যাগনা কার্টা’ বলা হয়। এতে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায়।
  • ১৮৮২ সালের হান্টার কমিশন (Hunter Commission): প্রাথমিক শিক্ষার দায়িত্ব স্থানীয় স্বায়ত্ত্বশাসিত সংস্থাগুলোর ওপর অর্পণ করে গণশিক্ষার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেয়।
  • ১৯১৭-১৯২৭ সালের প্রাথমিক শিক্ষা আইন: এই সময়কালে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলায় ও বিভিন্ন প্রদেশে প্রাথমিক শিক্ষা কিছুটা অবাধ্যতামূলক বা সম্প্রসারণের আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়।
  • ১৯৪৪ সালের সার্জেন্ট রিপোর্ট (Sargent Report): ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী সকল শিশুর জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার ঐতিহাসিক সুপারিশ প্রণয়ন করে।

স্বাধীন বাংলাদেশের সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ:

স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের সংবিধানে ১৭ অনুচ্ছেদে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষাকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে যুক্ত করা হয়।

  • ড. কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন (১৯৭৪): স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন হিসেবে সার্বজনীন, সুসংহত ও জীবনমুখী প্রাথমিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে।
  • বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন (১৯৯০): ১৯৯০ সালে জাতীয় সংসদে ঐতিহাসিক ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন’ পাস হয়। ৫ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ঘোষণা করা এই আইনের মূল লক্ষ্য।
  • আইন বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ (১৯৯২-১৯৯৩): ১৯৯২ সালে উক্ত আইনের অধীনে প্রাথমিকভাবে ৬৮টি থানায় (উপজেলায়) পরীক্ষা-নিরীক্ষামূলকভাবে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সাল থেকে সারাদেশে একযোগে তা সম্প্রসারিত হয়।
  • স্বতন্ত্র বিভাগ সৃষ্টি: প্রাথমিক শিক্ষার তদারকি ও ত্বরান্বিত করতে ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ’ (যা পরবর্তীতে ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়’-এ রূপান্তরিত হয়) প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে গৃহীত সরকার ও সামাজিক উদ্যোগ

নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্ত করতে এবং সকল শিশুকে বিদ্যালয়মুখী করতে বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয় সমাজ নানা রূপান্তরমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে:

  • ভর্তির প্রবৃদ্ধি ও ঝরে পড়ার হার হ্রাস: ১৯৯১ সালে যেখানে প্রাথমিক স্তরে শিশু ভর্তির সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৬ লক্ষ ৩৫ হাজার, বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে নিট ভর্তির হার প্রায় ১০০% এ পৌঁছেছে। আর ঝরে পড়ার (Dropout) হার ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়ে বর্তমানে উল্লেখজনকভাবে কমে এসেছে।
  • বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ: ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছরের প্রথম দিন (১ জানুয়ারি) প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের কোটি কোটি শিক্ষার্থীর হাতে ‘বই উৎসব’-এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নতুন চমৎকার পাঠ্যপুস্তক তুলে দেওয়া হচ্ছে।
  • উপবৃত্তি ও শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি: অতিদরিদ্র পরিবারের শিশুদের স্কুলে ধরে রাখতে পূর্বে প্রবর্তিত ‘শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি’র আধুনিক রূপ হিসেবে শতভাগ ডিজিটাল উপবৃত্তি ব্যবস্থা (মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মায়ের একাউন্টে উপবৃত্তির টাকা পৌঁছে দেওয়া) চালু রয়েছে, যা বাল্যবিয়ে ও ঝরে পড়া বন্ধে ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখছে।
  • জীবনমুখী শিক্ষাক্রম ও স্বাস্থ্যসংযোজন: প্রাথমিক শিক্ষার নতুন শিক্ষাক্রমে পুষ্টি, স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, স্যানিটেশন, পরিবেশ সুরক্ষা ও প্রাথমিক কম্পিউটার শিক্ষার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।
  • অবকাঠামো ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো আধুনিকায়ন, শিশু বান্ধব ক্লাসরুম তৈরি, ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট স্থাপন এবং প্রাথমিক শিক্ষকদের ‘পিটিআই’ (PTI) ও ডিপিএড (DPEd) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানসম্মত পাঠদানের যোগ্য করে তোলা হচ্ছে।

বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের প্রধান বাধাসমূহ

অসামান্য অর্জন সত্ত্বেও আমাদের দেশের বাধ্যতামূলক ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে কিছু সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে:

১. চরম দারিদ্র্য ও শিশুশ্রম

দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারের অভিভাবকরা অনেক সময় আর্থিক বাধ্যবাধকতার কারণে সন্তানদের স্কুলে না পাঠিয়ে অল্প বয়সেই উপার্জনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে পাঠাতে বাধ্য হন।

২. অশিক্ষা ও সামাজিক কুসংস্কার

বিশেষ করে দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকায় অনেক অসচেতন অভিভাবক এখনও মনে করেন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়ে অতি দ্রুত কাজ শেখা ভালো। কন্যাশিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রেও কিছু গোঁড়া সামাজিক বাধা মাঝেমধ্যে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

৩. ভৌত অবকাঠামো ও ভৌগোলিক প্রতিকূলতা

হাওড়, চর, পার্বত্য অঞ্চল এবং উপকূলীয় দ্বীপগুলোতে বছরের নির্দিষ্ট সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকে। এসব দুর্গম এলাকায় বিদ্যালয়ের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় শিশুরা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না।

৪. জীবনমুখী ও আনন্দময় শিক্ষাক্রমের ঘাটতি

অনেক বিদ্যালয়ে এখনও আধুনিক ও আনন্দময় পদ্ধতিতে পড়ানোর পরিবেশের অভাব রয়েছে। প্রথাগত কঠিন মুখস্থ পরীক্ষা ব্যবস্থার ভয়ে অনেক শিশু বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

৫. মানসম্মত শিক্ষকের স্বল্পতা ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাব

মানসম্মত শিক্ষা দিতে দরকার দক্ষ ও আধুনিক মনস্ক শিক্ষক। অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত (Teacher-Student Ratio) কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই, যার ফলে একজন শিক্ষকের পক্ষে সকল শিশুর প্রতি সমান নজর দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা শতভাগ সফল করার কার্যকর কৌশল

প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্য কেবল সরকারি আইন পাসের ওপর নির্ভর করে না; এটি সফল করতে চাই সর্বস্তরের সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগ:

  • বিদ্যালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি ও ভৌগোলিক সমতা: সকল চরাঞ্চল, হাওড় ও দুর্গম পার্বত্য এলাকায় পর্যাপ্ত পরিবেশবান্ধব বিদ্যালয় ও ভাসমান/বিশেষ যানবাহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
  • অভিভাবক সচেতনতা বৃদ্ধি ও উঠান বৈঠক: গ্রামীণ ও বস্তি এলাকায় মায়েদের নিয়ে নিয়মিত উঠান বৈঠক ও সমাবেশ করে প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব এবং সরকারি প্রণোদনার কথা তুলে ধরতে হবে।
  • শিক্ষার উপকরণ ও উপবৃত্তি বৃদ্ধি: দ্রব্যমূল্যের সাথে সঙ্গতি রেখে দরিদ্র পরিবারের উপবৃত্তির টাকার পরিমাণ বৃদ্ধি করা এবং পুষ্টিকর মিড-ডে মিল (দুপুরের টিফিন) সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলকভাবে চালু করা।
  • শিক্ষকদের মানসম্মত বেতন ও আধুনিক প্রশিক্ষণ: প্রাথমিকে সবচেয়ে মেধাবী তরুণ-তরুণীদের আকর্ষণ করতে শিক্ষকদের স্কেল ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা এবং তাদের শিশুমনোবিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিতে আধুনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা।
  • আনন্দময় ও খেলাধুলাভিত্তিক পাঠদান: মুখস্থ বিদ্যার ভয় দূর করে ছবি, কার্টুন, গান, খেলাধুলা ও প্রজেক্টের মাধ্যমে শিক্ষাদান ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যাতে শিশু প্রতিদিন সানন্দে স্কুলে আসে।

উপসংহার

সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা কোনো করুণা বা দান নয়; এটি প্রতিটি শিশুর জন্মগত ও সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক অধিকার। প্রাথমিক শিক্ষা একটি উন্নত, প্রগতিশীল, বৈষম্যহীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রধানতম ভিত্তিপ্রস্তর।

জাতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি এবং সুসংহত গণতন্ত্রের বিকাশ নিশ্চিত করতে হলে প্রাথমিক শিক্ষার সকল অন্তরায়কে উপড়ে ফেলতে হবে। রাষ্ট্র, শিক্ষা প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক ও সুশীল সমাজ—সবাইকে একযোগে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। বিশ্বখ্যাত লেখক লি. জে. বেইলির সেই চিরন্তন বাণীটি আমাদের স্মরণ রাখতে হবে:

“কেবল একটি প্রকৃত শিক্ষিত জাতিই একটি দেশকে সুসংহত, নিখুঁত ও সুন্দর গণতন্ত্র উপহার দিতে পারে।”
প্রধান তথ্যসূত্র ও প্রামাণ্য গ্রন্থাবলী:
১. প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সংক্রান্ত বার্ষিক প্রতিবেদন – প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
২. বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও নীতি – ড. কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট (১৯৭৪)
৩. Education in Colonial India & Wood’s Despatch – Sir Charles Wood (1854)
৪. জাতীয় শিক্ষা নীতি (২০১০) – শিক্ষা মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
৫. জাতীয় ব্যাকরণ ও নির্মিতি (৭ম ও ৮ম শ্রেণি) – জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha