আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম রূপকার এবং প্রথিতযশা সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের এক অনবদ্য কাব্যিক সৃষ্টি ‘প্রতীক্ষায়’। বিশ শতকের শেষভাগে বাংলা কবিতায় যে আধুনিকতা, তীব্র আবেগ ও রোমান্টিকতার নতুন স্রোত তৈরি হয়েছিল, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন তার অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি।
আলোচ্য ‘প্রতীক্ষায়’ কবিতাটিতে কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা, রহস্য এবং অপেক্ষার অদ্ভুত পরাবাস্তব চিত্র এঁকেছেন। কবির কল্পনার বাগানে ফোটা ফুলটি এখানে চিরাচরিত স্নিগ্ধতার প্রতীক নয়, বরং তা এক ‘অগ্নিময়’ সত্তা—যার উত্তাপে পতঙ্গের ডানা পুড়ে যায়, এমনকি বাতাস ও সূর্যাস্তও যাকে দূর থেকে সমীহ করে চলে।
অন্য সব সাধারণ কুসুমের তুচ্ছ জীবনকে পেছনে ফেলে, বৈদূর্যমণির মতো উজ্জ্বল চোখ মেলে তীব্র প্রতীক্ষায় প্রহর গোনা এই ফুলটি যেন মানুষের অন্তরের গভীর কোনো অব্যক্ত অপেক্ষা বা তীব্র প্রেমেরই এক শৈল্পিক রূপক। কার জন্য এই প্রতীক্ষা—সেই চিরন্তন রহস্যের জাল বুনেই কবি কবিতাটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। আজকের আয়োজনে আমরা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জাদুকরী কলমে লেখা এই রহস্যময় ও প্রতীক্ষাতুর কবিতাটি পাঠ করব এবং এর অন্তর্নিহিত ভাবার্থ অনুধাবন করার চেষ্টা করব।
প্রতীক্ষায় – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
গোলাপে রয়েছে আঁচ, পতঙ্গের ডানা পুড়ে যায়
হাওয়া ঘোরে দূরে-দূরে
ফুলকে সমীহ করে
সূর্যাস্তও থমকে থাকে!
দেখো-দেখো
আমার বাগানে এক অগ্নিময়
ফুল ফুটে আছে
তার সৌরভেও কত তাপ!
আর সব কুসুমের জীবন-চরিত তুচ্ছ করে
সে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে চতুর্দিক
বৈদুর্ষমণির মতো চোখ মেলে সে রয়েছে প্রতীক্ষায়
কার? কার?
