বাংলা গুরুকুল, GOLN

জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি তীব্র চিত্রকল্প আর এক ধরনের নিষ্ঠুর সৌন্দর্যের মিশেল। এখানে সমর্পণ আর ধ্বংসের এক ভয়ঙ্কর অথচ অনিবার্য রূপ ফুটে উঠেছে। কবি ‘হাড়িকাঠ’ শব্দটিকে ব্যবহার করেছেন নিয়তি বা চরম বলিদানের প্রতীক হিসেবে।

হাড়িকাঠের গঠনকে তিনি মানুষের ‘জানু’ বা হাঁটুর ভাঁজের সাথে তুলনা করে এক প্রকার আদিম ও জৈবিক আবহের সৃষ্টি করেছেন। এখানে আত্মসমর্পণের মুহূর্তটি এতটাই ক্ষণস্থায়ী যে, সামান্য অন্যমনস্কতা বা ‘চোখের পলক’ ফেলার আগেই চূড়ান্ত বিচ্ছেদ ঘটে যায়। দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন মাথার সামনের মাঠে ছিটকে পড়ার যে বর্ণনা, তা জীবনের নশ্বরতা এবং মুহূর্তের চরম সত্যকে এক বীভৎস অথচ কাব্যিক গাম্ভীর্যে উপস্থাপন করে। এটি মূলত অস্তিত্বের এক অমোঘ সংকটের ছবি।

দুখানি জানুর মতো খোলা – জয় গোস্বামী

দুখানি জানুর মতো খোলা
হাড়িকাঠ
মুখ রাখো তাতে

চোখের পলক ফেলতে মাথা ছিঁটকে চলে যাবে সামনের মাঠে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।