কিছু চাই? – সুকুমার রায়
কিছু চাই? – সুকুমার রায় কারোর কিছু চাই গো চাই? এই যে খোকা, কি নেবে ভাই ? জলছবি আর লাট্টু লাটাই কেক বিস্কুট লাল দেশলাই খেলনা বাঁশি কিংবা ঘুড়ি লেড্ পেনসিল রবার ছুরি ? এসব আমার কিছুই নাই, কারোর কিছু চাই গো চাই ? কারোর কিছু চাই গো চাই ? বৌমা কি চাও শুনতে পাই […]
ট্যাঁশ গরু – সুকুমার রায়
ট্যাঁশ গরু – সুকুমার রায় ট্যাঁশ গরু গরু নয়, আসলেতে পাখি সে ; যার খুশি দেখে এস হারুদের আফিসে । চোখ দুটি ঢুলু ঢুলু, মুখখানা মস্ত, ফিট্ফাট্ কালোচুলে টেরিখানা চোস্ত । তিন-বাঁকা শিং তার, ল্যাজখানি প্যাঁচান- একটুকু ছোও যদি, বাপ্রে কি চ্যাঁচান ! লট্খটে হাড়গোড় খট্খট্ ন’ড়ে যায়, ধম্কালে ল্যাগ্ব্যাগ্ চমকিয়ে প’ড়ে যায় । বর্ণিতে […]
কিম্ভূত! – সুকুমার রায়
কিম্ভূত! – সুকুমার রায় বিদ্ঘুটে জানোয়ার কিমাকার কিম্ভূত, সারাদিন ধ’রে তার শুনি শুধু খুঁতখুঁত ৷ মাঠপারে ঘাটপারে কেঁদে মরে খালি সে, ঘ্যান্ ঘ্যান্ আব্দারে ঘন ঘন নালিশে ৷ এটা চাই সেটা চাই কত তার বায়না— কি যে চায় তাও ছাই বোঝা কিছু যায় না ৷ কোকিলের মত তার কন্ঠেতে সুর চাই, গলা শুনে আপনার, বলে, […]
ডানপিটে – সুকুমার রায়
ডানপিটে – সুকুমার রায় বাপ্রে কি ডানপিটে ছেলে!- কোন দিন ফাঁসি যাবে নয় যাবে জেলে। একটা সে ভুত সেজে আঠা মেখে মুখে, ঠাঁই ঠাই শিশি ভাঙে শ্লেট দিয়ে ঠুকে। অন্যটা হামা দিয়ে আলমারি চড়ে, খাট থেকে রাগ ক’রে দুম্দাম্ পড়ে। বাপরে কি ডানপিটে ছেলে!- শিলনোড়া খেতে চায় দুধভাত ফেলে! একটার দাঁত নেই, জিভ দিয়ে ঘষে, […]
কেন সব কুকুরগুলো – সুকুমার রায়
সুকুমার রায়ের এই পঙ্ক্তিমালাটি তাঁর চিরচেনা ‘ননসেন্স’ বা খামখেয়ালি দর্শনের এক চমৎকার উদাহরণ। এখানে আপাতদৃষ্টিতে অর্থহীন কিছু কৌতূহলী প্রশ্নের মাধ্যমে কবি মানুষের অকারণ ও গভীর পাণ্ডিত্যের অসারতাকে বিদ্রূপ করেছেন। কুকুরের চিৎকার থেকে শুরু করে ফোকলা দাঁতের পোকা—এমন সব আজগুবি বিষয়ে ‘ছায়ায় বসে’ চিন্তার আহ্বান মূলত অলস বুদ্ধিজীবীদের প্রতি এক সূক্ষ্ম পরিহাস। সহজ ছন্দে গভীর রসিকতাই […]
ঢপ ঢপ ঢাক ঢোল – সুকুমার রায়
সুকুমার রায়ের এই পঙ্ক্তিমালাটি শব্দের ধ্বনিমাধুর্য বা ‘অনোপম্যাটোমিয়া’র এক অনবদ্য উদাহরণ। এখানে ঢাক, ঢোল, বাঁশি আর করতালের বিচিত্র শব্দের মাধ্যমে এক হট্টগোলপূর্ণ উৎসবের আবহ তৈরি করা হয়েছে। শব্দের এই প্রবল তোড়ে এবং ‘ধুমধাম’ কাণ্ডে সাধারণ যে কেউ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যেতে পারে। কবিতাটির শেষভাগে এক শিশুতোষ কৌতুক ফুটে উঠেছে। বাজনা আর শব্দের প্রচণ্ডতায় ভয় পেয়ে ‘বাবুদের […]
খোকা ঘুমায় – সুকুমার রায়
খোকা ঘুমায় – সুকুমার রায় কোন্খানে কোন্ সুদূর দেশে, কোন্ মায়ের বুকে, কাদের খোকা মিষ্টি এমন ঘুমায় মনের সুখে? অজানা কোন্ দেশে সেথা কোন্খানে তার ঘর? কোন্ সমুদ্র, কত নদী, কত দেশের পর? কেমন সুরে, কি ব’লে মা ঘুমপাড়ানি গানে খোকার চোখে নিত্যি সেথা ঘুমটি ডেকে আনে? ঘুমপাড়ানি মাসীপিসী তাদেরও কি থাকে? “ঘুমটি দিয়ে যাওগো” […]
তেজিয়ান – সুকুমার রায়
তেজিয়ান – সুকুমার রায় চলে খচ্খচ্ রাগে গজ্গজ্ জুতা মচ্মচ্ তানে, ভুরু কট্মট্ ছড়ি ফট্ফট্ লাথি চট্পট্ হানে । দেখে বাঘ-রাগ লোকে ‘ভাগ্ ভাগ্’ করে আগভাগ থেকে, বয়ে লাফ ঝাঁপ বলে ‘বাপ্ বাপ্’ সরে হাবভাব দেখে । লাথি চার চার খেয়ে মার্জার ছোটে যার যার ঘরে, মহা উৎপাত ক’রে হুটপাট্ চলে ফুটপাথ্ পরে । ঝাড়ুবর্দার […]
বর্ষার কবিতা – সুকুমার রায়
বর্ষার কবিতা – সুকুমার রায় কাগজ কলম লয়ে বসিয়াছি সদ্য, আষাঢ়ে লিখিতে হবে বরষার পদ্য । কি যে লিখি কি যে লিখি ভাবিয়া না পাই রে, হতাশে বসিয়া তাই চেয়ে থাকি বাইরে । সারাদিন ঘনঘটা কালো মেঘ আকাশে, ভিজে ভিজে পৃথিবীর মুখখানা ফ্যাকাশে । বিনা কাজে ঘরে বাঁধা কেটে যায় বেলাটা, মাটি হল ছেলেদের ফুটবল […]
নিঃস্বার্থ – সুকুমার রায়
নিঃস্বার্থ – সুকুমার রায় গোপ্লাটা কি হিংসুটে মা ! খাবার দিলেম ভাগ করে, বললে নাকো মুখেও কিছু, ফেল্লে ছুঁড়ে রাগ করে । জ্যাঠাইমা যে মেঠাই দিলেন, “দুই ভায়েতে খাও” ব’লে— দশটি ছিল, একটি তাহার চাখতে নিলেম ফাও বলে । আর যে ন’টি, ভাগ করে তায়, তিন্টে দিলেম গোপ্লাকে— তবুও কেবল হ্যাংলা ছেলে আমার ভাগেই চোখ […]