বাংলা গুরুকুল, GOLN

ঘরে রাধাবিনোদ আকাশ – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি তীব্র পরাবাস্তবতা এবং সৃজনশীল যন্ত্রণার এক অসামান্য দলিল। এখানে ঘরোয়া পরিবেশ আর মহাজাগতিক বিষয়ের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন ঘটেছে। ঘরের কোণে লণ্ঠনের স্তিমিত আলো আর মেঝের আলো-ছায়াকে কবি ‘রাধাবিনোদ আকাশ’ বা ‘ঝুলনের চাঁদ’ হিসেবে কল্পনা করে এক অপার্থিব আবহ তৈরি করেছেন। লণ্ঠনের ‘চক্ষু দপ্দপ’ করাটা মূলত এক অতৃপ্ত অন্বেষণের প্রতীক। অমাবস্যা আর […]

একটি শেষমুহূর্তের নারীসিন্ধুতট – জয় গোস্বামী

একটি শেষমুহূর্তের নারীসিন্ধুতট – জয় গোস্বামী একটি শেষমুহূর্তের নারীসিন্ধুতট অন্যটিতে আরম্ভের ডানা ছড়ানো ঈগল ছোঁ মেরে ওঠে আবার, তার নখে সরীসৃপ পায়ের গোছে শিকল একটি শুভ আরম্ভের মাঙ্গলিক ঘট ঘটের নীচে সাপের চোখ, মণি বুড়ো আঙুল কেটে দেওয়ার পরেও বাকি থাকে কলম, তর্জনী মাটির কান, মাটির নীচে রক্ত চলাচল– ভূর্গভের হৃদয় নড়ে–ওষ্ঠ? নড়ে তা-ও! দুঃখ […]

প্রেম বোলে তো – জয় গোস্বামী

প্রেম বোলে তো – জয় গোস্বামী এইখানে এসে প্রেম শেষ হল। শরীর মরেছে। তোমার হাত ধরে আমি দাঁড়িয়েছি বৃষ্টির ভিতরে গাছ থেকে জল পড়ছে, বৃষ্টিছাট ছুটে আসছে গা-য়, “ভিজে যাবে’ -তুমি বলছ, “সরে এসো ছাতারতলায়’ আমাদের একটাই ছাতা। তাতে দুজনেরই চলে যায়। আরও কালো করে এল, গাছে ডানা ঝাপটায়। দুজনে দাঁড়িয়ে আছি। দুজনে দাঁড়িয়ে থাকব। […]

তুমি আর তোমার ক্যাডার – জয় গোস্বামী

তুমি আর তোমার ক্যাডার – জয় গোস্বামী ১ দলে দলে মোটর বাইকে ঢুকে পড়ে কারা ঢুকে পড়ে ভোর বেলা কারা ঢুকে পড়ে জানা যায় না কিন্তু তারই পরে এ গ্রামে, ও গ্রামে, ঘরে ঘরে অবাধে কৃষক-রক্ত ঝরে জাগ্রত কৃষক রক্ত ঝরে ২ অস্ত্র প্রয়োগের অধিকারী তুমি আর তোমার ক্যাডার আমরা শুধু খুন হতে পারি মুখ […]

গাছের জন্মান্ধ – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই ক্ষুদ্র পঙ্ক্তিমালাটি এক গূঢ় আধ্যাত্মিক এবং রূপকধর্মী দর্শনের বহিঃপ্রকাশ। এখানে ‘গাছ’ ও ‘দীপ’ (প্রদীপ)—এই দুটি বিপরীতধর্মী উপাদানের মধ্য দিয়ে কবি জীবনের এক বিচিত্র সত্য উন্মোচন করেছেন। কবি এখানে প্রদীপের শিখাকে গাছের সাথে তুলনা করেছেন, যা মাটির গভীরে নয় বরং ঊর্ধ্বমুখী আলোর তৃষ্ণায় ধাবমান। ‘জন্মান্ধ’ শব্দটি দিয়ে কবি হয়তো সেই মজ্জাগত প্রবৃত্তিকে বুঝিয়েছেন, […]

একটি বৃষ্টির সন্ধ্যা – জয় গোস্বামী

একটি বৃষ্টির সন্ধ্যা – জয় গোস্বামী চোখ, চলে গিয়েছিল, অন্যের প্রেমিকা, তার পায়ে। যখন, অসাবধানে, সামান্যই উঠে গেছে শাড়ি— বাইরে নেমেছে বৃষ্টি। লন্ঠন নামানো আছে টেবিলের নীচে, অন্ধকারে মাঝে মাঝে ভেসে উঠেছে লুকোনো পায়ের ফর্সা আভা… অন্যায় চোখের নয়। না তাকিয়ে তার কোনো উপায় ছিল না। সত্যিই ছিল না? কেন?—হুহু করে বৃষ্টিছাট ঢুকে আসে ঘরে […]

প্রেতের মিলননারী নেই – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি এক তীব্র কামজ যন্ত্রণা, অতৃপ্তি এবং মহাজাগতিক হাহাকারের সংমিশ্রণ। এখানে ‘প্রেত’ কোনো ভৌতিক সত্তা নয়, বরং এক অবদমিত ও অতৃপ্ত বাসনার প্রতীক। তার ‘মিলননারী নেই’—এই বাক্যটি এক চরম একাকীত্ব এবং শারীরিক ও মানসিক অপূর্ণতাকে নির্দেশ করে। এই অতৃপ্তি মেটানোর জন্য প্রেতটি মহাজাগতিক ও প্রাকৃতিক শক্তির শরণাপন্ন হয়। চন্দ্র ও সূর্যকে আঁকড়ে […]

তারাখণ্ড সমুদ্রে পড়েছে – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই কবিতাটি মহাজাগতিক এক মহাপ্রলয়ের মুহূর্তকে স্থাণু করে রাখার এক অনন্য শিল্পকর্ম। একটি ‘তারাখণ্ড’ বা উল্কাপাতের মাধ্যমে পৃথিবী ধ্বংসের যে ক্ষণকাল, কবি তাকে ‘একপলক’ সময়ের ফ্রেমে বন্দী করেছেন। সেই শেষ মুহূর্তে আগুনের শিখা আর তীব্র আলোয় চরাচর ঝলসে ওঠার যে দৃশ্য, তা একাধারে সুন্দর এবং ভয়াবহ। কবিতাটির গভীরতম ব্যঞ্জনা ফুটে উঠেছে শেষ চরণে। […]

ক্ষুধার শেষ ক্লান্তি, ক্ষার, ঘুমের শেষ জল – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই কবিতাটি যুদ্ধোত্তর এক শ্মশানসম পৃথিবীর নিথর ও বীভৎস ছবি। এখানে ‘ক্ষুধা’, ‘ক্ষার’ আর ‘রক্ত’—এই শব্দগুলোর মাধ্যমে কবি জীবনের চরম নিঃশেষিত রূপকে ফুটিয়ে তুলেছেন। যুদ্ধের মত্ততায় আকাশ থেকে যে রক্ত ঝরছে, তা পান করেই সূর্য যেন এক তৃপ্ত ‘লাল ঢেলা’ হয়ে আছে। কবিতার দ্বিতীয় অংশে এক অদ্ভুত ও ক্রূর বৈপরীত্য দেখা যায়। কামানের […]

একটি দুর্বোধ্য কবিতা – জয় গোস্বামী

একটি দুর্বোধ্য কবিতা – জয় গোস্বামী এবার লক্ষ্মীশ্রী মুছে গেছে লেগেছে কি তীব্র রূপটান এইবার পথে বেরোলেই সকলের চক্ষু টানটান বাড়ি ফিরে সেই এক সংসার সেই এক সাধারণ স্বামী আজ শান্ত, কাল উদাসীন বই নিয়ে আছে তো আছেই অভিযোগ করাই বোকামী অবশ্য মানুষটা ভালোই নেশা নেই, ঠিক সময়ে ফেরে অসুখ হলে উতলাও হয় ছুটি নেয়, […]