বাংলা গুরুকুল, GOLN

ভূপৃষ্ঠের ধাতব মলাটে – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার এক রুক্ষ ও পরাবাস্তব প্রতিচ্ছবি। কবি এখানে পৃথিবীকে তুলনা করেছেন একটি ‘ধাতব মলাটে’র সঙ্গে, যেখানে স্বাভাবিক ঘাসের বদলে জন্মেছে প্রাণহীন ‘ইস্পাতের ঘাস’। এটি মূলত আমাদের চারপাশের কৃত্রিমতা ও যান্ত্রিকতারই ইঙ্গিত। কবিতার শেষভাগে এক গভীর রাজনৈতিক ও অস্তিত্ববাদী হাহাকার ফুটে উঠেছে। ‘বিদ্যুৎশাস্ত্র’ বা জ্ঞানের আলো হাতে থাকা সত্ত্বেও মানুষ […]

ভাঙা বাড়ি – জয় গোস্বামী

জয় গোস্বামীর এই পঙ্ক্তিমালাটি এক অবক্ষয়িত সময় এবং মানবিক সম্পর্কের চূড়ান্ত একাকীত্বের ছবি। এখানে ‘ভাঙা বাড়ি’ কেবল জরাজীর্ণ ইমারত নয়, বরং মানুষের ভেঙে পড়া অস্তিত্ব ও মনের প্রতীক। বাড়ির ভেতরে কোনো প্রাণস্পন্দন নেই, বরং সেখানে জমাট বেঁধে আছে ‘জড়বুদ্ধি ক্রোধ’ আর ‘হাহাকার’, যা মানুষের ভেতরের বিষাদকে এক কদর্য রূপ দেয়। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্রটি ফুটে উঠেছে […]

ভরত মণ্ডলের মা – জয় গোস্বামী

‘ভরত মণ্ডলের মা’ জয় গোস্বামীর এক অনন্য রাজনৈতিক ও মানবিক দলিল, যেখানে ব্যক্তি-মানুষের যন্ত্রণাকে ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে মাটির প্রতি এক চিরকালীন অধিকারবোধ। কবিতাটি কেবল এক বৃদ্ধার আর্তনাদ নয়, বরং রাষ্ট্রশক্তি ও দলীয় ক্যাডারদের পেশ পেশী-শক্তির বিরুদ্ধে এক সাধারণ ভূমিপুত্র-জননীর অসম লড়াইয়ের ঘোষণাপত্র। যখন তথাকথিত উন্নয়নের নামে বা রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েমের লক্ষে সাধারণ কৃষকের জমি […]

বৃষ্টি ভেজা বাংলা ভাষা – জয় গোস্বামী

বৃষ্টি ভেজা বাংলা ভাষা – জয় গোস্বামী কে মেয়েটি হঠাৎ প্রণাম করতে এলে ? মাথার ওপর হাত রাখিনি তোমার চেয়েও সসংকোচে এগিয়ে গেছি তোমায় ফেলে ময়লা চটি, ঘামের গন্ধ নোংরা গায়ে, হলভরা লোক, সবাই দেখছে তার মধ্যেও হাত রেখেছ আমার পায়ে আজকে আমি বাড়ি ফিরেও স্নান করিনি স্পর্শটুকু রাখব বলে তোমার হাতের মুঠোয় ভরা পুস্করিণী […]

বিষাদ ২ – জয় গোস্বামী

বিষাদ ২ – জয় গোস্বামী ঐ যে দুজন তোমরা থামের আড়ালে ঘন হয়ে মেট্রো স্টেশনের মধ্যে ঐ যে দুজন দাঁড়িয়েছ যে মেয়েটি কথা বলছ ছেলেটির শার্টের বোতামে হাত রেখে যে-ছেলেটি বান্ধবীর কপালের ঝুঁকে আসাচুল সরাচ্ছ আঙুলে-তারা কদিন, কদিন পরে আর শিক দিয়ে খন্তা দিয়ে এ অন্যের কয়লা ঘ্যাঁস চাপাপড়া মন খুঁড়ে খুঁড়ে তুলবে না তো? […]

বিষাদ ১ – জয় গোস্বামী

বিষাদ ১ – জয় গোস্বামী শেষরাত্রে বৃষ্টি এলো, শব্দে উঠে বসলাম দুজন মাঝখানে মেয়ে শুয়ে, উঠে পড়বে, কথা বলবোনা কলহ অর্ধেক রেখে মাঝরাত্রে দুজনে শুয়েছি দু-দুটো লোহার বস্তা বুকে চাপিয়ে শুয়েছি দুজন এখন জানলায় বৃষ্টি, দুজনেই অঝোর তাকিয়ে এখন কোথায় রাখবো লৌহভরা অভিযোগভরা এমন সামান? আও উঠাকে লে যাও কৈ ইসে নেবার তো কেউ নেই, […]

নৌকো থেকে বৈঠা পড়ে যায় – জয় গোস্বামী

নৌকো থেকে বৈঠা পড়ে যায় – জয় গোস্বামী নৌকো থেকে বৈঠা পড়ে যায় জলের তলায় কালো ছাইরঙা জল একবার ঢেউ দিয়ে অন্ধকার এখন কোথায় আছে সেই বৈঠাখানি? দুটো কৌতুহলী মাছ, দু’ খণ্ড পাথর, লক্কড়, সাইকেল ভাঙা গোল আংটির পাশে পাঁকে গাঁথা চারানা আট আনা। অন্ধকারে ওদের চোখ জ্বলে। এই জলে থেকে থেকে এখন ওরাও কোনো […]

জলহাওয়ার লেখা – জয় গোস্বামী

জলহাওয়ার লেখা – জয় গোস্বামী স্নেহসবুজ দিন তোমার কাছে ঋণ বৃষ্টিভেজা ভোর মুখ দেখেছি তোর মুখের পাশে আলো ও মেয়ে তুই ভালো আলোর পাশে আকাশ আমার দিকে তাকা– তাকাই যদি চোখ একটি দীঘি হোক যে-দীঘি জ্যো‌ৎস্নায় হরিণ হয়ে যায় হরিণদের কথা জানুক নীরবতা– নীরব কোথায় থাকে জলের বাঁকে বাঁকে জলের দোষ? — নাতো! হাওয়ায় হাত […]

কবিকন্যা – জয় গোস্বামী

কবিকন্যা – জয় গোস্বামী শক্তির মেয়ের সঙ্গে প্রেম করব স্বপ্ন ছিল যুবক বয়সে শ্রোতার আসনে বসে মঞ্চে দেখা শক্তিকে দু’বার। কন্যাটিকে একবারও নয়। তবু ইচ্ছে,ইচ্ছে-সার,মন গাছের গোড়ায় ঢাললেই ফুল ফুটতে দেরির কী আছে! শক্তিদা বলার মতো সম্পর্ক যখন হল তখনও কবিকে সীমাহীন দূরের সম্ভ্রমে রাখি।ভালোবাসি আরো সীমাহারা। কর্মসূত্রে যে-সাক্ষাৎ,তাকে রেখে আসি কর্মস্থলে। বাড়িতে একবার যাওয়া, […]

নিজের ছেলেকে খুন ক’রে – জয় গোস্বামী

নিজের ছেলেকে খুন ক’রে – জয় গোস্বামী নিজের ছেলেকে খুন ক’রে ঐ দেখ, চলেছে অভাবী নিজের মেয়েকে বিক্রি ক’রে ঐ ফিরে যাচ্ছেন জননী ওদের সঞ্চয় থেকে ফেরার রাস্তায় পড়ে যায় অশ্রুর বদলে বালি, পয়সা ও রক্তের চাকতি–গোল তারপর সমস্ত জল। শুধু ওই গোল গোল পাথরে আগুন ধকধক করবে একদিন, আর সেই আগুনে পা ফেলে ক্রোধ […]