বাংলা গুরুকুল, GOLN

নিরুপায় – সুকুমার রায়

নিরুপায় – সুকুমার রায় বসি বছরের পয়লা তারিখে মানের খাতায় রাখিলাম লিখে- “সহজ উদরে ধরিবে যেটুক্‌, সেইটুকু খাব হব না পেটুক ।” মাস দুই যেতে খাতা খুলে দেখি, এরি মাঝে মন লিখিয়াছে একি ! লিখিয়াছে, “যদি নেমন্তন্নে কেঁদে ওঠে প্রাণ লুচির জন্যে, উচিত কি হবে কাঁদান তাহারে ? কিম্বা যখন বিপুল আহারে, তেড়ে দেয় পাতে […]

কত বড় – সুকুমার রায়

সুকুমার রায়ের এই কবিতাটি শিশুর কৌতূহলী চোখ দিয়ে বিশ্বকে দেখার এক চমৎকার রূপক। একটি ক্ষুদ্র ইঁদুর ছানা, যার জগত কেবল একটি অন্ধকার ‘দেরাজের কোণ’ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ, তার মাধ্যমেই কবি বড় হয়ে ওঠার এবং জানার প্রক্রিয়াকে ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রাথমিকভাবে অন্ধ ইঁদুর ছানাটি মনে করত তার মায়ের কোল আর ওই ধুলোমাখা কোণটুকুই তার সম্পূর্ণ জগত। কিন্তু যখন […]

ছুটি (ছুটি ছুটি ছুটি) – সুকুমার রায়

ছুটি (ছুটি ছুটি ছুটি) – সুকুমার রায় ছুটি! ছুটি! ছুটি! মনের খুশি রয়না মনে হেসেই লুটোপুটি। ঘুচল এবার পড়ার তাড়া অঙ্ক কাটাকুটি দেখ্‌ব না আর পন্ডিতের ঐ রক্ত আঁখি দুটি। আর যাব না স্কুলের পানে নিত্য গুটি গুটি এখন থেকে কেবল খেলা কেবল ছুটোছুটি। পাড়ার লোকের ঘুম ছুটিয়ে আয়রে সবাই জুটি গ্রীষ্মকালের দুপুর রোদে গাছের […]

কলিকাতা কোথা রে – সুকুমার রায়

কলিকাতা কোথা রে – সুকুমার রায় গিরিধি আরামপুরী, দেহ মন চিৎপাত, খেয়ে শুয়ে হু হু করে কেটে যায় দিনরাত; হৈ চৈ হাঙ্গামা হুড়োতাড়া হেথা নাই; মাস বার তারিখের কোন কিছু ল্যাঠা নেই; খিদে পেলে তেড়ে খাও, ঘুম পেলে ঘুমিও- মোট কথা, কি আরাম, বুঝলে না তুমিও ! ভুলেই গেছিনু কোথা এই ধরা মাঝেতে আছে যে […]

হনহন পনপন – সুকুমার রায়

সুকুমার রায়ের এই কালজয়ী ছড়াটি ধ্বন্যাত্মক শব্দের জাদুকরী ব্যবহারের এক অনন্য নিদর্শন। মাত্র দুটি শব্দের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পঙ্ক্তিতে কবি গতি, প্রকৃতি, অসুখ আর দৈনন্দিন জীবনের নানা অনুষঙ্গকে জীবন্ত করে তুলেছেন। ‘হনহন’, ‘টনটন’ বা ‘ঝনঝন’-এর মতো শব্দের ঝঙ্কারে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য এক আবহ তৈরি হয়েছে এখানে। নিছক শব্দের খেলা ছাপিয়ে এটি হয়ে উঠেছে ছন্দের এক অবিস্মরণীয় উৎসব, যা […]

কহ ভাই কহ রে – সুকুমার রায়

সুকুমার রায়ের এই পঙ্ক্তিমালাটি তাঁর চিরচেনা হাস্যরস ও ‘ননসেন্স’ লজিকের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। এখানে এক কাল্পনিক ‘অ্যাঁকা চোরা’ শহরের অদ্ভুত সব নিয়মের কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞ চিকিৎসকদের বা ‘বদ্যিদের’ আলুভাতে না খাওয়ার পেছনে কবি এক উদ্ভট বৈজ্ঞানিক কারণ দাঁড় করিয়েছেন। কাগজে লেখা সেই আজব তত্ত্ব অনুযায়ী, আলু খেলে নাকি মগজের ঘিলু নষ্ট হয়ে যায় এবং […]

জালা-কুঁজো সংবাদ – সুকুমার রায়

জালা-কুঁজো সংবাদ – সুকুমার রায় পেটমোটা জালা কয়, “হেসে আমি মরিরে কুঁজো তোর হেন গলা এতটুকু শরীরে!” কুঁজো কয়, “কথা কস্ আপনাকে না চিনে, ভুঁড়িখানা দেখে তোর কেঁদে আর বাঁচিনে।” জালা কয়, “সাগরের মাপে গড়া বপুখান, ডুবুরিরা কত তোলে তবু জল অফুরান।” কুঁজো কয়, “ভালো কথা ! তবে যদি দৈবে, ভুঁড়ি যায় ভেস্তিয়ে, জল কোথা […]

কাঁদুনে – সুকুমার রায়

কাঁদুনে – সুকুমার রায় ছিঁচ্ কাঁদুনে মিচ্‌কে যারা শস্তা কেঁদে নাম কেনে, ঘ্যাঙায় শুধু ঘ্যার্ন ঘ্যার্ন ঘ্যান্ঘ্যানে আর প্যান্‌প‌্যানে- কুঁকিয়ে কাঁদে খিদের সময়, ফুঁপিয়ে কাঁদে ধম্‌কালে, কিম্বা হঠাৎ লাগলে ব্যথা, কিম্বা ভয়ে চমকালে; অল্পে হাসে অল্পে কাঁদে কান্না থামায় অল্পেতেই , মায়ের আদর দুধের বোতল কিম্বা দিদির গল্পেতেই – তারেই বলি মিথ্যে কাঁদন; আসল কান্না […]

টিক্‌ টিক্‌ টং – সুকুমার রায়

সুকুমার রায়ের এই ছড়াটি মূলত বিশ্ববিখ্যাত ইংরেজি নার্সারি রাইম ‘Hickory Dickory Dock’-এর এক অনবদ্য বাংলা রূপান্তর। এখানে সময়ের প্রতীক হিসেবে ঘড়ির ‘টিক্‌ টিক্‌’ ধ্বনি আর একটি চঞ্চল ইঁদুরের কর্মকাণ্ডকে অত্যন্ত সহজ ও ছন্দময়ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ইঁদুরটি কৌতূহলবশত ঘড়ির ওপর চড়লেও, ঘড়ির সেই গম্ভীর ‘টং’ শব্দে সে ঘাবড়ে যায় এবং লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যায়। এই […]

কানা-খোঁড়া সংবাদ – সুকুমার রায়

কানা-খোঁড়া সংবাদ – সুকুমার রায় পুরাতন কালে ছিল দুই রাজা, নাম ধাম নাহি জানা, একজন তার খোড়া অতিশয়, অপর ভূপতি কানা। মন ছিল খোলা, অতি আলো ভোলা ধরমেতে ছিল মতি, পর ধনে সদা ছিল দোঁহাকার বিরাগ বিকট অতি। প্রতাপের কিছু নাহি ছিল ত্রুটি মেজাজ রাজারি মত, শুনেছি কেবল, বুদ্ধিটা নাকি নাহি ছিল সরু তত, ভাই […]